বিজ্ঞাপন

গ্রুপভিত্তিক সমীকরণ: নকআউটের টিকিট পেল কারা, অপেক্ষায় কারা

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলের দুটি করে ম্যাচ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দল শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে, আবার কিছু দলের বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে অধিকাংশ গ্রুপেই শেষ ম্যাচের আগে টিকে থাকা ও বিদায়ের সমীকরণ এখনো খোলা রয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ১২টি গ্রুপের বর্তমান অবস্থান।

বিজ্ঞাপন

গ্রুপ ‘এ’: টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট সমান ১ হলেও ফেয়ার প্লেতে এগিয়ে থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র।

গ্রুপ ‘বি’: কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের সংগ্রহ সমান ৪ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে রয়েছে কানাডা। অন্যদিকে বসনিয়া ও কাতারের পয়েন্ট সমান ১ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে বসনিয়া তৃতীয় স্থানে।

গ্রুপ ‘সি’: ব্রাজিল ও মরক্কো দুই দলই ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। মরক্কো দ্বিতীয় এবং ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। দুই ম্যাচ হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।

গ্রুপ ‘ডি’: দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের পয়েন্ট সমান ৩ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় স্থানে। টানা দুই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তুরস্ক।

গ্রুপ ‘ই’: জার্মানি দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। আইভরিকোস্ট ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইকুয়েডর ও কুরাসাওয়ের পয়েন্ট সমান ১ হলেও কম গোল হজম করায় ইকুয়েডর এগিয়ে।

গ্রুপ ‘এফ’: নেদারল্যান্ডস ও জাপানের পয়েন্ট সমান ৪। গোল ব্যবধান সমান থাকলেও বেশি গোল করায় শীর্ষে নেদারল্যান্ডস। জাপান দ্বিতীয় এবং ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তিউনিসিয়ার।

গ্রুপ ‘জি’: ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মিসর। ইরান ও বেলজিয়ামের পয়েন্ট এবং গোল ব্যবধান সমান হলেও ফেয়ার প্লে বিবেচনায় ইরান দ্বিতীয় ও বেলজিয়াম তৃতীয় স্থানে আছে।

গ্রুপ ‘এইচ’: স্পেন এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে। উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের পয়েন্ট সমান ২। গোল ব্যবধানেও সমতা থাকায় ফেয়ার প্লেতে এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উরুগুয়ে।

গ্রুপ ‘আই’: ফ্রান্স ও নরওয়ে দুই দলই টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে এবং শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে ফ্রান্স শীর্ষে। সেনেগাল ও ইরাক এখনো কোনো পয়েন্ট পায়নি। ফেয়ার প্লেতে এগিয়ে সেনেগাল তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

গ্রুপ ‘জে’: দুই ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার পয়েন্ট সমান ৩ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রিয়া দ্বিতীয় স্থানে। টানা দুই হারে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে জর্ডানের।

গ্রুপ ‘কে’: কলম্বিয়া টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। পর্তুগাল ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে কঙ্গো।

গ্রুপ ‘এল’: ইংল্যান্ড ও ঘানার সংগ্রহ সমান ৪ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধান ও বেশি গোল করার সুবাদে শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। ঘানা দ্বিতীয় এবং ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ফলে এই গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে নকআউটের লড়াই এখনো পুরোপুরি খোলা রয়েছে।

পরিসংখ্যানে সমতায় দুই মহাতারকা মেসি-রোনালদো

একসময় ফুটবল দুনিয়ায় তাদের অবস্থান ছিল দুই মেরুতে। মাঠের প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি রেকর্ড আর প্রতিটি শিরোপা নিয়ে চলেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেই লড়াইয়ে বিশ্ব ফুটবল পেয়েছে দুই কিংবদন্তি—লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে।

সময় অবশ্য বদলেছে। বয়সের ভারে এখন আগের মতো তীব্র প্রতিযোগিতা নেই। মেসি পা রেখেছেন ৩৯ বছরে, আর রোনালদো পেরিয়েছেন ৪১। তবে ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ডে এসে মিলেছে দুই তারকার নাম।

বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম ও সর্বশেষ গোলের মধ্যকার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের রেকর্ড এখন যৌথভাবে ধরে রেখেছেন মেসি ও রোনালদো। আর বিস্ময়কর বিষয় হলো, দুজনের ব্যবধানই ঠিক সমান—২০ বছর ১১ দিন।

রোনালদো বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন ২০০৬ সালে ইরানের বিপক্ষে, ১৭ জুন অনুষ্ঠিত ম্যাচে। আর তার সর্বশেষ গোল এসেছে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। ফলে বিশ্বকাপে তার প্রথম ও শেষ গোলের মধ্যকার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২০ বছর ১১ দিন।

মেসির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে একই চিত্র। ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়ার বিপক্ষে ১৬ জুন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করা সর্বশেষ গোলের মাধ্যমে তার প্রথম ও শেষ গোলের মধ্যকার ব্যবধানও দাঁড়িয়েছে ঠিক ২০ বছর ১১ দিন।

বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে এই অনন্য মিল দুই কিংবদন্তিকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার একে অপরকে চ্যালেঞ্জ জানানো দুই ফুটবলারের নাম এবার লেখা হলো একই রেকর্ডের পাশে।

তবে এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপে নিজ দেশের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতার রেকর্ডও এখন তাদের দখলে। এই তালিকায় আগে থেকে ছিলেন ডেনমার্কের কিংবদন্তি মাইকেল লাউড্রপ। পরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে সেখানে নাম লেখান মেসি। আর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল করে সেই ক্লাবে যোগ দেন রোনালদো।

লাউড্রপ ডেনমার্কের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন ২১ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে। সর্বশেষ গোল করেছিলেন ৩৪ বছর ৯ দিন বয়সে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে।

মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ গোলের সময় তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন।

অন্যদিকে রোনালদো পর্তুগালের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন ২১ বছর ১৩২ দিন বয়সে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ গোল করার সময় তার বয়স ছিল ৪১ বছর ১৩৮ দিন।

দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ডে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন মেসি ও রোনালদো। তবে এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিরল পরিসংখ্যান তাদের এনে দিল একই উচ্চতায়।

বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ হচ্ছে, আর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ফাইনালে যাবেন না—এমনটা না হওয়ারই কথা।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আসলে তা–ই। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক–নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই। গতকাল খবরটি নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

পড়ুন: পানামার বিদায়, নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল ক্রোয়েশিয়া

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন