চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু জায়হান আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পটিয়া থানার মোড় চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহত শিশুর পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় শত শত মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে সন্তান হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন জায়হানের মা জোবাইদা বেগম। তিনি বলেন, “পৈশাচিক কায়দায় আমার কোল খালি করা হয়েছে। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।”
নিহত শিশুর পিতা মো. শাহজাহান বলেন, “আমার নিষ্পাপ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসন যে ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দেখতে চাই।”
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফরিদ আহমদ, মফিজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন, জমির উদ্দীন আজাদ এবং ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন। বক্তারা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এ সময় একই ওয়ার্ডের গোবিন্দারখীল এলাকায় সম্প্রতি নিহত ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়।
কর্মসূচি শেষে জায়হানের পিতা-মাতা ও স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে তিনি নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, পটিয়া পৌরসদরের পূর্বপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর বাড়ির পেছন থেকে শিশু জায়হান আবরারের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নিহাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পড়ুন : নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী নিখোঁজ


