উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার ২০-২৫ মিনিট। দুবাই ফেরত প্রবাসী মোহাম্মদ রুবায়েত মাতুব্বরের মনে তখন শুধুই হারানোর বেদনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর দুই সদস্যের সততা, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং দ্রুত তৎপরতায় কাটল সেই ঘোর অন্ধকার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুলবশত অন্য এক যাত্রীর ট্রলিতে চলে যাওয়া লাগেজটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে আনসার সদস্যরা।
ঘটনার সূত্রপাত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে। শাহজালাল বিমানবন্দরের হেভি লাগেজ-০৩ এলাকায় তখন যাত্রীদের ভিড়। দুবাই থেকে আসা রুবায়েত মাতুব্বর হঠাৎ আবিষ্কার করেন, তার প্রিয়জনদের জন্য আনা জিনিসপত্রে ঠাসা ব্যাগটি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চারদিকে খুঁজেও যখন কোনো হদিস মিলছিল না, তখন তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র আর কষ্টের উপার্জনে কেনা জিনিসপত্র হারানোর আশঙ্কায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঠিক তখনই তার সহায়তায় এগিয়ে আসেন সেখানে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য—মোঃ আকরাম হোসেন ও মোঃ ফয়েজ আহমেদ। প্রবাসীর উদ্বেগের কথা শুনে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকা জুড়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি আনসার সদস্য আকরাম ও ফয়েজ। ব্যাগের গায়ে থাকা নাম ও ঠিকানার স্টিকারের সূত্র ধরে তারা বিমানবন্দরের প্রতিটি কোনায় তল্লাশি চালান। প্রায় ২০ মিনিটের নিবিড় খোঁজাখুঁজি শেষে রো-ডি (Row-D) এলাকায় মেলে ব্যাগটির সন্ধান। দেখা যায়, অসাবধানতাবশত অন্য এক প্রবাসী যাত্রীর ট্রলিতে রুবায়েতের ব্যাগটি।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাগের মালিকানা ও পরিচয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে ব্যাগটি প্রবাসী রুবায়েতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হারানো ব্যাগ অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে অত্যন্ত খুশি হন প্রবাস ফেরত রুবায়েত। তার চোখে-মুখে তখন আনন্দের ঝিলিক। আনসার সদস্যদের এই সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতায় আপ্লুত হয়ে তিনি ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ মহোদয় বাহিনীর সদস্যদের দেশের মানুষ ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের প্রতি দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করার নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। বিমানবন্দরের এই ঘটনাটি বাহিনীর সেই সেবামূলক ও মানবিক ভাবমূর্তিরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

