বিজ্ঞাপন

অনলাইনে তরুণীকে হয়রানি, সিআইডির জালে সাবেক সেনাসদস্য

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে এক তরুণীর ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচার এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে হয়রানির অভিযোগে মো. সারোয়ার হোসেন খান (৪০) নামে এক সাবেক সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

গ্রেফতারকৃত সারোয়ার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি গাজীপুরের একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরআগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ জানান, গত বছরের ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী তরুণী মোহনগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশের ‘নারীদের জন্য সাইবার সুরক্ষাবিষয়ক সেল’ এ লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর পুলিশের সাইবার টিম ও সিআইডি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ তদন্ত চালিয়ে ভুয়া আইডিগুলোর পেছনের মূল হোতা সারোয়ারকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, ভুয়া ফেসবুক আইডিগুলো থেকে তার সাধারণ ছবি ও ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে অত্যন্ত অশ্লীলভাবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। দিনের পর দিন বিকৃত এই কনটেন্ট ছড়িয়ে তাকে নিয়মিত হেনস্তা করা হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম সামাজিক অপমান এবং মানসিক ভোগান্তির শিকার হন।

সাইবার হয়রানির কারণে ভুক্তভোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, লোকলজ্জা, মানসিক চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে একপর্যায়ে ওই তরুণীকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নারীকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, সেজন্য অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় অবৈধ যান ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান: জরিমানা ও সাজা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন