গ্রুপপর্বে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করে নিজেদের পথ কঠিন করে ফেলেছিল উরুগুয়ে। নকআউট পর্বে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে হারানোর বিকল্প ছিল না। তবে ১-০ গোলের হারে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
শনিবার মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪২তম মিনিটে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় স্পেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পরই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। তিনটি গ্রুপ ম্যাচ খেলেও কোনো জয়ের দেখা পায়নি উরুগুয়ে। অন্যদিকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখে পরের পর্বে উঠেছে স্পেন।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে কেপ ভার্দে। তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট, যা উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি। তৃতীয় স্থানে শেষ করলেও সেরা আটটি তৃতীয় স্থানের দলের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার মতো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি উরুগুয়ে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৯তম স্থানে থাকা উরুগুয়ে এখন পর্যন্ত বিদায় নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন স্পেনের মিডফিল্ডার অ্যালেক্স বায়েনা। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন ৪০ বছর বয়সী মুসলেরা। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় বড় ভুল।
ম্যাচ শেষে হতাশায় মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন উরুগুয়ের কয়েকজন ফুটবলার। মাঠ ছাড়ার সময় সমর্থকদের একাংশ তাদের উদ্দেশে দুয়োধ্বনিও দেন। গ্রুপপর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হলেও দুই দলই খুব বেশি পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ফেদেরিকো ভিনাস বক্সের ভেতরে পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি তোলে উরুগুয়ে। শেষ মুহূর্তে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের ডিফেন্ডার পল কুবার্সিকে ট্যাকল করায় উরুগুয়ের আগুস্তিন কানোবিও লাল কার্ড দেখেন। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এই স্ট্রাইকারকে সতীর্থরা মাঠের বাইরে নিয়ে যান। শেষ বাঁশির পর তিনি আবার মাঠে ফিরে রেফারির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।
১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগেই কঠিন সমীকরণে পড়ে যায়। সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করার পর দলটির ওপর চাপ বেড়ে যায়। এ সময় উরুগুয়ের সংবাদমাধ্যমে অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসার সঙ্গে খেলোয়াড়দের অসন্তোষের খবরও প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা স্পেন প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও পরের ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কখনো শেষ ষোলো পেরোতে পারেনি স্পেন।
পড়ুন: যে তিন দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করল সৌদি আরব
আর/


