সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
গত ২২ জুন উপজেলা প্রশাসন, তাড়াশ থানা পুলিশ এবং সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ নারী তদন্ত টিমের সমন্বয়ে বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরেজমিন গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে একাধিক ছাত্রী কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ তুলে ধরে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রভাষক মো. জহুরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক সুজন কুমার মাহাত এবং বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক বিকাশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের সাময়িক বরখাস্ত, সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে তাদের শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করতেন এবং যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করে আসছিলেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাড়াশ বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, মারধরের অজুহাতে আমাদের শরীরে স্পর্শ করা হতো। স্কুল ও কোচিং—দুই জায়গাতেই নানা অজুহাতে এমন আচরণ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে বলা হতো, ‘মজা করছি’। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ চলছিল।
একজন অভিভাবক বলেন, যারা এ ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা। তাদের একজন বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম বলেন, এটি একটি চক্রান্ত। যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তদন্ত টিম বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরেজমিন তদন্তে তিনজনের নাম উঠে এসেছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্যে তিনজনের নাম উঠে এসেছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
পড়ুন:নরসিংদীতে ময়লার স্তুপ থেকে পুলিশের সোর্সের মরদেহ উদ্ধার
দেখুন:এনসিপি যাদের সাথে জোট করেছে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল |
ইমি/


