বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে বিয়েতে ব্যর্থ হয়ে মামাতো বোনের স্বামীর বসতঘরে আগুন

নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে বিয়েতে ব্যর্থ হয়ে সদ্য পালিয়ে বিয়ে করা মামাতো বোনের স্বামীর বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘরবাড়িসহ সব আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ইউনিয়নের দক্ষিণ রতনপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাঁধের হাট বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. বাহার উদ্দিন (বাহার মহাজন)-এর ছোট মেয়ে বিবি রাবেয়া রিতু প্রতিবেশী মো. মোস্তাফার ছেলে মো. আরিফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গত ২১ মে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় রিতুর পরিবার সুধারাম মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরে পুলিশ আরিফের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে।

পরবর্তীতে গত ১৪ জুন চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব আরিফ ও রিতুকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার শর্তে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগী আরিফের মা ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে আরিফ রিতুকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করার পর থেকেই রিতুর ফুফাতো ভাই মো. সাগর তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। তিনি দাবি করেন, সাগর তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়েছিল। হুমকির পর বসতঘরে তালা দিয়ে তিনি গত প্রায় এক মাস যাবৎ ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার দিবাগত রাতে তিনি খবর তার বসতঘরে আগুন লেগে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তার দাবি পূর্বের হুমকির ধারাবাহিকতায় সাগরই তাদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে। আগুনে তাদের বসতঘরের সব আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

আরিফের স্ত্রী বিবি রাবেয়া রিতু বলেন, তার ফুফাতো ভাই সাগর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আরিফকে ভালবাসতেন, যা তার পরিবার মেনে নিতে পারেননি। পরে তারা পালিয়ে বিয়ে করায় তার বাবা ও ফুফাতো ভাই সাগর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ কারণে সাগর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি দিত এবং শেষ পর্যন্ত তার স্বামীল বসতঘরে আগুন দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বাহার মহাজনের চার মেয়ে রয়েছে, কোনো পুত্র সন্তান নেই। গত বছর তার স্ত্রীও মারা যান। ফলে তিনি ভাগিনা সাগরকে নিজের কাছে রেখে লালন-পালন করছিলেন এবং ছোট মেয়ে রিতুর সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু রিতু নিজের পছন্দে বিয়ে করায় সাগর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তারা জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আরিফের বসতঘরে আগুন দেখে প্রতিবেশীরা চিৎকার করলে সবাই ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই পুরো ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে গেছে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্রও।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সরকারের কাছে পুনর্বাসনের সহায়তা কামনা করেছেন।

রিতুর বাবা মো. বাহার উদ্দিন বলেন- আমার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় ভাগিনা সাগরকে লালন-পালন করি। কিন্তু কখনো ভাগিনার কাছে মেয়ে বিয়ে দিবো, তা ভাবিও নাই। এখন মেয়ে ওই ছেলেটার (আরিফ) সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করায় সাগরের নামে মিথ্যা ঘর পোড়ানোর অভিযোগ রটাচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাবাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন