চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান থেমে গেল শেষ ৩২ পর্বেই। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। ফক্সবোরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার টাইব্রেকারে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো জার্মানদের।
২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। এবার দাপটের সঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট নিশ্চিত করলেও সেই যাত্রা আর দীর্ঘায়িত করতে পারেনি তারা।
চলতি আসরের এটি ছিল তৃতীয় নকআউট ম্যাচ, যেখানে নিষ্পত্তির জন্য গড়াতে হয়েছে টাইব্রেকারে। বিশ্বকাপে এর আগে দুই দলই পেনাল্টি শুটআউটে শতভাগ সফল ছিল। জার্মানি তাদের চারটি শুটআউটেই জয় পেয়েছিল। বড় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে সাতবার টাইব্রেকারে অংশ নিয়ে চারবার জিতেছিল তারা।
১৯৭৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে হারের পর টানা ছয়টি টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল জার্মানি। সেই ধারাও থামিয়ে দিল প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপে দুই দলের আগের একমাত্র দেখায় ২০০২ সালে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল জার্মানি। ২৪ বছর পর সেই হারের প্রতিশোধ নিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
বিশ্বকাপের নকআউটে এর আগে পাঁচবার খেলেও কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেনি প্যারাগুয়ে। তাদের একমাত্র জয় এসেছিল ২০১০ সালের আসরে, যখন পেনাল্টি শুটআউটে জাপানকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র টাইব্রেকার জয়। পরে শেষ আটে স্পেনের কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলতে নেমেছিল জার্মানি।
পেনাল্টি শুটআটের শুরুতেই ধাক্কা খায় জার্মানি। কাই হ্যাভার্জের জোরালো শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। এরপর মাউরিসিও ন্যয়ারকে পরাস্ত করে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন। জোশুয়া কিমিখ সমতা ফেরালেও গুস্তাভো গোমেজ আবারও এগিয়ে দেন প্যারাগুয়েকে। জামাল মুসিয়ালা গোল করলে মাতিয়াস গালারজাও লক্ষ্যভেদ করেন।
চতুর্থ শটে নিকো ওল্টারমেডের নিচু শটও ঠেকিয়ে দেন গিল। তবে অ্যান্তনিও সানাবরিয়া সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচ তখনও খোলা ছিল। নাদিয়েম আমিরি গোল করে জার্মানিকে টিকিয়ে রাখেন। এরপর ন্যয়ার ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনার শট রুখে আশা জাগান। কিন্তু জোনাথন টাহ ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল পাঠালে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় প্যারাগুয়ে। শেষ পর্যন্ত জোসে ক্যানেলের জোরালো শট জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
১২ বছর পর নকআউটে খেলতে নেমে বিরতির ঠিক আগে গোল হজম করে জার্মানি। ৪২তম মিনিটে জুলিও এনকিসোর নিচু হেডে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ওই গোল ঠেকানোর সুযোগ ছিল না ম্যানুয়েল ন্যয়ারের।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানি। ৫৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান উইর্টজের ক্রসে কাই হ্যাভার্জের মাথার আলতো ছোঁয়ায় সমতায় ফেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর আর কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সমতা ফেরানোর চার মিনিট পর গুস্তাভো কাবায়েরোর হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ন্যয়ার। ৬৬তম মিনিটে লেরয় সানের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। পরে হ্যাভার্জের আরেকটি হেড এবং ইনজুরি সময়ে জোনাথন টাহের হেডও অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন অরল্যান্ডো গিল। তার দৃঢ়তায় নির্ধারিত সময়ে আর গোল পায়নি জার্মানি।
অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জোনাথন টাহর হেডে জার্মানি এগিয়ে গিয়েছিল। নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে জাল খুঁজে নেন তিনি। তবে ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, বল আসার আগে ভালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। আগামী ৪ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় তারা ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচে জিততে পারলে ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে আবারও ফক্সবোরোতে ফিরবে দলটি।


