স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া মেডিক্যাল ছুটির অযুহাতে নাসিমা আক্তার নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বেশ কয়েক মাস ধরে ইতালিতে আয়েসি জীবনযাপন করছেন। তিনি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ১৫ নং সত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা পদে চাকুরীরত রয়েছেন। এতে করে ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের লেখা পড়ায় বিগ্ন ঘটছে। আর এই ভুয়া মেডিক্যাল ছুটির প্রাপ্তির কাজে সহযোগিতা করছেন অন্য একটি স্কুল ২০ নং পূর্ব গৈড্যা সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি) পারভীন আক্তার। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তবে এ তথ্যে কিছু জানার পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৫ নং সত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ২ মার্চ ২০১০ সালে এ স্কুলে যোগদান করেন। এরপর তিনি গত কয়েক বছর আগেও স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছ থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে ছুটির আবেদন দিয়ে তিনি ছুটি কাটিয়েছেন। কিন্তু এ বছর ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে একই উপায়ে তিনি অসুস্থ থাকার অযুহাতে মেডিক্যাল ছুটি নেন। এরপরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে তার বোন পারভীন আক্তার এসে আরো একটি ছুটির আবেদন জমা দিয়ে আরোও ১ মাসের ছুটি নেন। তৃতীয়বার একই ব্যক্তি আবারো ২৮ মে ২০২৬ ইং তারিখ হতে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত নাসিমা আক্তারের জন্য ছুটির সময় আরোও ১ মাস বৃদ্ধি করেন। এপর্যন্ত এসব আবেদনের মাধ্যমে তিনি মোট ৭০ কার্য দিবস ইতালিতে অবস্থান করেন।
সরেজমিনে ১৫ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় নাসিমা আক্তার ৩ মাস যাবত মেডিক্যাল ছুটি কাটাচ্ছেন। তবে তার প্রকৃত অবস্থা জানতে তাকে মোবাইল ফোন করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু তিনি কোন হাসপাতালে বা বাড়িতে আসেন কি না তা জানতে তার বোন সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার কল দিলে তিনিও নাসিমা আক্তারের সঠিক অবস্থান বলতে পারেননি।
এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিতে হলে প্রথমে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পাসপোর্ট করার জন্য বা পাসপোর্ট সচল করার জন্য প্রথমে নিজ বিভাগ থেকে অনাপত্তি সনদ বা NOC সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বহিঃবাংলাদেশ অর্জিত ছুটি (Ex-Bangladesh Earned Leave) নিতে হবে। সেখানে যদি ইতালি থাকা অবস্থায় পূর্ব-অনুমোদিত ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত ছুটির প্রয়োজন হয়, তবে ইতালির বাংলাদেশ হাই কমিশনের (High Commission) মাধ্যমে আবেদন করে ছুটি বাড়ানোর অনুমতি নিতে হবে। এগুলোর কিছুই করেননি ওই সহকারী শিক্ষিকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, স্কুলটিতে শিক্ষক একনিতেই কম। তার পরে আবার যদি একজন অসুস্থতার অযুহাতে বিদেশে চলে যায় তাহলে কিভাবে ছেলে মেয়েদের ভালো লেখা পড়া হবে। এই বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানাই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করা হউক।
কিন্তু সহকারি শিক্ষিকা নাসিমা আক্তার মন্ত্রণালয়ের কোন অনুমোদন না নিয়েই পাসপোর্ট তৈরি করে অধিদপ্তরের বিনা অনুমতিতে মাসের পর মাস ইতালিতে স্বামী-সন্তানের কাছে অবস্থান করেছেন। এ সকল ছুটি চলাকালীন সময়ে তিনি সরকারের সকল বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হচ্ছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাসিমা আক্তারকে মোবাইল ফোনে কল দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।তবে অনলাইনে হোয়াইট এপে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
২০ নং পূর্ব গৈড্যা সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি) পারভীন আক্তার মুঠোফোনে ছুটির আবেদন করার কথা স্বিকার করলেও সাক্ষাৎকারে অস্বীকার করেছেন তিনি।
এ বিষয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঃ ছোবাহান মুন্সি বলেন, সহকারি শিক্ষিকা নাসিমা আক্তারের ইতালি গমনের বিষয় জানতেন না। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে ডিজি মহোদয়ের অনুমোদন নিতে হয়। সে আমাদের কাছে তথ্য গোপন করে মেডিক্যাল ছুটির অযুহাতে বিদেশে গেছে।
প্রধান শিক্ষক ও এ টিও সুপারিশ করেছে তাই তাকে বেডরেস্টের জন্য ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এখন যদি সে দেশের বাহিরে যায় তাহলে আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে আজি লিখব। ঘটনা সত্যি হলে তার বিরুদ্ধে কতৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।
নাসিমা আক্তারের এ সকল অনৈতিক ছুটি ভোগের তথ্যটি ফাঁস হয় চলতি বছরের ১৭ জুন।
শরীয়তপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক হলেন উম্মে কুলসুম বলেন, নাসিমা আক্তারের নামে (এনআইডি নম্বর- ৬৪০৯২৭০৯৬১) একটা পাসপোর্ট করা হয়েছে। তবে সেখানে তার পেশাগত স্থানে গৃহিনী দেয়া রয়েছে। তবে সে যদি সরকারি চাকুরি করেন তাহলে আমাদের কাছে তথ্যে গোপন করে ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট করেছেন। এটা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ।
পড়ুন : বন্দরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে জখম, জনতার হাতে আটক ডিস সুজন


