বিজ্ঞাপন

রাঙ্গাবালীতে মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ তদারকি ছাড়াই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত পুরুত্বের চেয়ে কম ফ্লোর ঢালাই এবং তদারকি না থাকার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের পর মঙ্গলবার চলমান ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি না থাকার সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনের দুই কক্ষের ফ্লোর ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে একইভাবে বাকি একটি কক্ষ ও বারান্দার ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসার সুপার ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।

নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্ধারিত তিন ইঞ্চির পরিবর্তে একটু কম পুরুত্বে ফ্লোর ঢালাই করা হয়।

জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

মাদ্রাসার সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘খোয়া ছিল নিম্নমানের। পানি দিয়ে না ধুয়েই সেই খোয়া দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। আমি বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। পরে আমি বলে দিয়েছি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে নিয়ম অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোন কাজ করা যাবে না।’

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘শুরুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী এলেও পরে তাকে আর দেখা যায়নি। কোন তদারকি ছাড়াই ইচ্ছেমতো কাজ হচ্ছে। এসব কারণে একাধিকবার কাজ বন্ধ হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ ফ্লোর ঢালাইয়ে ব্যবহৃত খোয়া ছিল একেবারেই নিম্নমানের। ঢালাইয়ের মিশ্রণেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছিল না। পরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেয়।’

অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি নুর জামাল মৃধা বলেন, ‘এখানে আমি যে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড দিয়েছি- সবই একশোতে একশো মানের। একটি মালও দুই নম্বর নয়। সিমেন্টও গরম গরম দিয়েছি।’

এ বিষয়ে কাজটির তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটুয়াখালী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. কামরুল ইসলাম নাহিদ জানান, ‘ডাস্ট বা রাবিশ দিয়েতো ঢালাই হয় না। আপনি যেহেতু আমাকে তথ্য দিলেন, আমি এখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু জুন মাস চলছে তাই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কাজটি করতে বলা হয়েছে। তিন ইঞ্চির চেয়ে কম ঢালাই দেয়ার কথা না।

পড়ুন:পূর্বাচল নতুন শহরে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র হবে: আইজিপি

দেখুন:১ জুলাই ২০২৪: যে আন্দোলন বদলে দিলো বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ! 

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন