বিজ্ঞাপন

নতুন করে আইনি চাপে পড়েছে মেটা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পরিচালনাকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা শিশু-কিশোরদের আসক্ত করার অভিযোগে নতুন করে আইনি চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত মেটার বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার দেওয়া এক আদেশে ফেডারেল বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্স বলেন, মামলায় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও বাস্তব প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর নিষ্পত্তি পূর্ণাঙ্গ বিচার ছাড়া সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা যৌথভাবে এই মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিশু-কিশোররা দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকে। এর ফলে তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত প্রতারণামূলক আচরণ, অন্যায্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো বহাল রেখেছেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের আগে অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা মেটা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, সে বিষয়েও বিচারিক পর্যালোচনা প্রয়োজন।

রায়ের পর মেটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা অভিযোগগুলোর সঙ্গে একমত নয় এবং আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে এসব উদ্যোগ স্পষ্টভাবে উঠে আসবে বলেও জানিয়েছে মেটা।

অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পণ্যের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা, অনিদ্রা, পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি এবং আত্মক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে মেটা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি’ এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত কোনো মানসিক রোগ নয়। তাই তাদের প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি আসক্তিকর হিসেবে আখ্যায়িত করা সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানটির আরও দাবি, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম কেবল শিশুদের জন্য নয়; বরং সব বয়সী মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম।

তবে বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্স বলেছেন, প্ল্যাটফর্ম দুটি বাস্তবে শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে কি না এবং এ বিষয়ে মেটার বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বিচার প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

আদালতের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির দায়ের করা মামলার বিচার আগামী ১৮ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা। ওই শুনানিতে অভিযোগ, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। মামলার ফলাফল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

পড়ুন:পূর্বাচল নতুন শহরে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র হবে: আইজিপি

দেখুন:১ জুলাই ২০২৪: যে আন্দোলন বদলে দিলো বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ! 

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন