শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক জাল সনদে নিয়োগ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জাল সনদ নিয়ে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। একই ভাবে রাজশাহীর ৯টি উপজেলার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অভিযুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় নেতা ও এমপিদের তদবির নিয়ে দৌড়ঝাঁপের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
গত ৫ মে ২৬ তারিখ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা কর্তৃক অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোন সমাধান দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। এবিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা অফিস সূত্রমতে জানা যায়, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে জমা দিবে। পরবর্তীতে মহাপরিচালক সিন্ধান্ত গ্রহন করবেন।
রাজশাহীর জাল সনদে প্রায় ২৫ বছর অধিক সময় ধরে শিক্ষকগতা করছে অভিযুক্ত শিক্ষকরা। তারা হলো রাজশাহীর নওদাপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক শরিফা ইয়াছমিন, মোহনপুরের খাঁড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় এর স: শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, বাগমারা উপজেলার পানিশাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক মোছা: রুবিনা খাতুন, চারঘাট উপজেলার বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক ফৌজিয়া খাতুন, পদ্মা উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক মনির হোসেন, বাগমারার চক মহব্বতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক মোফাফফর হোসেন, বাঘা উপজেলার বারখাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, গোদাগাড়ীর পালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক সেলিম রেজা, বাগমারার হাট পাঙ্গোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক মজিদুল ইসলাম, চাঁপাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক আব্দুল মান্নান, তনোর উপজেলার সানজাই ডিগ্রী কলেজের প্রদর্শক তাঞ্জুরা খাতুন, বাগমারা বড় বিহানালী উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক মোছ: গুলশানারা, হাটমুজিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক বুলবুল হোসেন, গোদাগাড়ী উপজেলার সৈয়দপুর শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক মোবাসসেরা খাতুন, বাগমারা চক মহব্বতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক সবিতা খাতুন এবং খয়বর রহমান, সৈয়দপুর মচমইল মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আইনাল হক, প্রভাষক মোজহার আলী, প্রভাষক মোছা: জেসমিন আরা, মোহনপুর কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের স: শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) সুঞ্চিতাসহ আরো অনেকে।
অভিযুক্ত অনেক শিক্ষক পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের সময় তাদের নিয়োগ হয়েছে। ওই সময় থেকে এই পর্যন্ত তারা শিক্ষক পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে শিক্ষকতার বেতন দিয়ে সংসার পরিচালনা করছেন। এই চাকুরী হারালে তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন পথ খোলা থাকবে না। পরিশেষে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দাবি তারা সঠিক সনদ নিয়েই চাকুরী করছেন।
রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস পরিচালক হুমায়ন কবির জুয়েল বলেন, সম্প্রতী তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক স্কুল ও কলেজের অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রির্পোট এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক কার্যালয়ে আসেনি। ওই রির্পোট আসলে ডিজিকে প্রেরণ করা হবে। সার্বিক সিন্ধান্ত কেন্দ্রিয়ভাবে হবে।
পড়ুন : পূর্বাচল নতুন শহরে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র হবে: আইজিপি
সা/


