নরসিংদীর রায়পুরায় দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত আলী আহম্মেদ দুলুর বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান ষাটোর্ধ বয়সি আলী আহম্মেদ দুলু প্রকাশ্যে জানান, তিনি এখন থেকে বিএনপির রাজনীতিতেই সক্রিয় থাকবেন এবং জীবনের বাকি সময় বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অতীতে তিনি মূলত বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে চললেও নিজেকে বিএনপিরই মানুষ বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, “অরিজিনালি আমি বিএনপির লোক। ছোটবেলা থেকেই বিএনপি করেছি, ছাত্রদল করেছি। এখন আমি আমার নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। জীবনের বাকি সময় বিএনপি করেই থাকতে চাই।”
আলী আহম্মেদ দুলু আরও জানান, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। তবে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। দলীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই এবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের কারণে তিনি একাধিকবার নির্বাচনে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আলী আহম্মেদ দুলু প্রথমে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দলীয় পরিচয়ে একাধিকবার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জেলা তাঁতীলীগের আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদও লাভ করেন। এসব পদে দায়িত্ব পালনের পর এখন বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তার এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দলবদলের রাজনীতির উদাহরণ হিসেবে সমালোচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ বা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : জিয়ানগরে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, সুষ্ঠু বিচারের দাবি


