বিজ্ঞাপন

মিরপুরের কোয়ার্টারে গাড়িচালকের মৃত্যু: হত্যা না স্ট্রোক? নেত্রকোনায় তোলপাড়

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক গাড়িচালকের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের কপাল, গাল ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং মৃত্যুর আগে স্ত্রীর সঙ্গে হাতাহাতির তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুতাসিন হুসাইন সিরাজী (প্রজ্জ্বল) কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের রহিমপুর (গামরুলী) গ্রামের বাসিন্দা মরহুম মুসলেম উদ্দিন আকন্দের তৃতীয় ছেলে। তিনি রাজধানীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুর পাইকপাড়ার অফিসার্স কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ভোরে প্রজ্জ্বলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা রোফ ডরিন গ্রামের বাড়িতে থাকা আত্মীয়দের ফোনে জানান, তার স্বামী বিছানায় নড়াচড়া করতে পারছেন না এবং সম্ভবত স্ট্রোক করেছেন। এর কিছু সময় পরেই তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ মৃতের কপাল, গাল ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রীর গালেও আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর সন্দেহ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মৃতের স্ত্রী জানান, ঘটনার রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তার ধারণা, ওই ঘটনার পর স্ট্রোকের কারণে তার স্বামীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে স্বজনদের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর তাকে কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যেও কিছু অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে আজ (বৃহস্পতিবার) মরদেহ নেত্রকোনার হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে প্রজ্জ্বলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মদনে মাদক, পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার ৫

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন