ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন ২৭ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯১ জন। এছাড়া রাজধানী ও আশাপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে হামলায়।
আহত এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংস্তূপে লোকজন আটকা পড়ে আছেন। এছাড়া নিখোঁজও আছেন বেশ কয়েক জন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে সংঘটিত এই হামলা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানিয়েছেন কিয়েভের সামরিক প্রশানের শীর্ষ কমান্ডিং কর্মকর্তা তাইমুর তিকাচেঙ্কো। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কিয়েভে যত হামলা পরিচালনা করেছে রুশ বাহিনী, সেসবের মধ্যে বৃহস্পতিবারের হামলার ব্যাপ্তি এবং ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি।
রুশ বাহিনীর হামলার পর রাজধানীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। বৃহস্পতিবার রাতভর তৎপরতা চলেছে। তাইমুর তাইচেঙ্কো জানিয়েছেন, দিনিপ্রো নদীর তীরে কিয়েভের শহরতলীর একটি আবাসিক এলাকার কয়েকটি বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ৮ জন ওই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বাসিন্দা ছিলেন।
“ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার আগ পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলমান থাকবে”, টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেছেন তাইচেঙ্কো।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কিয়েভ এবং তার সংলগ্ন এলাকাগুলো লক্ষ্য করে মোট ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ইউএভি সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী।
“আঘাত করার সময় সাধারণত যে উচ্চতায় থাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বৃহস্পতিবারের হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় ছিল; এ কারণে আমাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে পারেনি”, বিবৃতিতে বলেছেন ইউরি।
পড়ুন : ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সদর দপ্তরে বোমা হামলার হুমকি
সা/


