বিজ্ঞাপন

সাভারে ফ্ল্যাটে নারীর মরদেহ, পুলিশ বলছে ধর্ষণের পর হত্যা

ঢাকার সাভারে নিজ ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে শারমিন আক্তার লিজা (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশের ধারণা, ওই নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত রাত ১১টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের খাটের ওপর অর্ধঝুলন্ত অবস্থায় ভুক্তভোগীর মরদেহ দেখতে পায়। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল এবং কক্ষের ভেতরে পাওয়া বেশ কিছু আলামতের ভিত্তিতে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ফরেনসিক টিমও কাজ করেছে। তাদেরও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ একই ধরনের বলে জানান তিনি।

জাকির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী প্রায় তিন বছর আগে স্বামীকে তালাক দেন। তিনি ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ওই ভাড়া ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন এবং রাজধানীর বসুন্ধরা সুপার মার্কেটে চাকরি করতেন।

তিনি বলেন, গতকাল সকালে তার মেয়ে এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যায়। দুপুর ৩টার দিকে মেয়ের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সর্বশেষ মুঠোফোনে কথা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়ে বাসায় ফিরে কক্ষে প্রবেশ করে মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।
পুলিশের ধারণা, দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেয়ে মাসুম নামে একজনকে সন্দেহ করছেন। তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে মাসুম পলাতক থাকায় এখনো তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

রাত ১টার দিকে নিহত শারমিন আক্তার লিজার মেয়ে সামিয়া আক্তার জেরিনের সঙ্গে সাভার মডেল থানায় কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

জেরিন বলেন, “মা আর আমি একই কক্ষে ঘুমাতাম। ঘটনার আগের রাতে মাসুম নামে একজনের সঙ্গে মায়ের গভীর রাত পর্যন্ত মুঠোফোনে ঝগড়া হয়। মায়ের কথোপকথন থেকে বুঝতে পারছিলাম, মাসুম ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিচ্ছিলেন। আমি বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দিইনি।

“সকালে আমি বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাই। মায়ের বসুন্ধরায় কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি যাননি। দুপুর ৩টার দিকে মা আমাকে মুঠোফোনে কল করে কোথায় আছি জানতে চান। আমি অবস্থান বলার পর তিনি কল কেটে দেন। সূর্যাস্তের সময় বাসায় ফিরে ফ্ল্যাটে ঢুকে মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। ফ্ল্যাটের দরজার হ্যাসবল লক করা ছিল না। আমার ধারণা, মাসুমই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি আমার মা হত্যার বিচার চাই।”

পড়ুন: নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন: ইরানের ২ শীর্ষ নেতাকে হত্যার চেষ্টা ইসরায়েলের

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন