বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে তীব্র লোডশেডিং: এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

 এরই মধ্যে ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলায় পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর পৌর এলাকা, ফুলবাড়িয়া, বোয়ালী, সূত্রাপুর, ঢালজোড়া, আটাবহ, মধ্যপাড়া, বড়ইবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনও আধা ঘণ্টা, কখনও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বাসিন্দারা।

তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, পানির মোটর ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার বেড়ীচালারএলাকার আলমগীর হোসেন  বলেন, এভাবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে গেলে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। রাতে ঘুমানোও দুষ্কর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কালামপুর গরুর খামারি জসিম উদ্দিন  বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে গরুগুলো প্রচণ্ড গরমে হাঁপিয়ে উঠছে। পানির পাম্প ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঢালজোড়া এলাকার মুরগির খামারি  রশিদ বলেন, খামারের ফ্যান ও ভেন্টিলেশন বন্ধ হয়ে গেলে মুরগি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা, দোকানপাট ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীরাও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, কাবিরপুর গ্রিড থেকে পরিচালিত কালিয়াকৈর ৩৩ কেভি ফিডারে লোডশেডিং করা হচ্ছে। গ্রিড পর্যায়ের এই লোডশেডিংয়ের কারণে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা এবং তীব্র গরমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন