বিজ্ঞাপন

আজ এন্ড্রু কিশোরকে হারানোর দিন

কণ্ঠ দিয়েছেন হাজারো গানে। ঠিক কতটি গান গেয়েছিলেন—সে হিসাব তিনি নিজেও জানতেন না। অনেকের মতে, সংখ্যাটি ১৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে জনপ্রিয় গানের সংখ্যাও এত বেশি যে, অনেক শিল্পীর পুরো ক্যারিয়ারেও তত গান নেই। এমন অসামান্য অবদানের কারণেই তিনি পেয়েছিলেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ উপাধি।

বিজ্ঞাপন

৬ জুলাই সেই কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে হারানোর দিন। ২০২০ সালের এই দিনে তিনি কোটি ভক্তকে শোকাহত করে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তবে এবারও দিনটি ঘিরে চলচ্চিত্র বা সংগীতাঙ্গনে বড় কোনো আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি। বরাবরের মতো তার জন্মস্থান রাজশাহীতে জেলা প্রেসক্লাব ও আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তার মা ছিলেন সংগীতপ্রেমী এবং বিশেষভাবে পছন্দ করতেন কিশোর কুমারের গান। সেই ভালোবাসা থেকেই ছেলের নাম রাখেন ‘কিশোর’। মায়ের উৎসাহেই সংগীতজগতে তার পথচলার শুরু। স্বাধীনতার পর রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।

মূলত চলচ্চিত্রের গায়ক হিসেবেই এন্ড্রু কিশোর নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী’ গান গাওয়ার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। তবে ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ ছবির ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। এরপর একের পর এক শ্রোতাপ্রিয় ও কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা প্লেব্যাক শিল্পী।

তার গাওয়া স্মরণীয় গানের মধ্যে রয়েছে—‘হায় রে মানুষ রঙিন ফানুশ’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ এবং ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে অনবদ্য গায়কীর স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পীর সম্মান অর্জন করেন। এছাড়া পাঁচবার লাভ করেন বাচসাস পুরস্কার। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে রাষ্ট্র তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।

পড়ুন : কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী তীজন বাঈ আর নেই

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন