টেস্ট সিরিজের হতাশা কাটিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে দারুণ শুরু করেছে টাইগার বোলাররা। হারারেতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ ওভার ৪ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন নিউম্যান নিয়ামুরি। ১০ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন নাহিদ রানা। এটিই বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি।
এদিন প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে আগে বোলিং নেয়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেছেন বোলাররা। শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে চাপে পড়ে স্বাগতিক ব্যাটাররা।
ইনিংসের শুরুতে ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারানের উদ্বোধনী জুটি কিছুটা দেখে-শুনে খেললেও তৃতীয় ওভারেই বড় সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। গালিতে বেনেটের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন রিশাদ হোসেন। তবে সেই ভুলের বড় মূল্য দিতে হয়নি টাইগারদের।
দলীয় ৩৬ রানের মধ্যেই ভেঙে যায় ওপেনিং জুটি। বেন কারান ১৮ রানে রান আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোতে। এরপরই তাসকিন আহমেদের ডেলিভারিতে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন বেনেট।
এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ধীরে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করলেও তিনি ফেরেন ২৬ রান করে। তাসকিন আহমেদের বলেই প্রথম বল খেলেই বোল্ড হন ক্রেইগ এরভিন এতে আরও চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
অভিজ্ঞ সিকান্দার রাজা ব্যর্থ হন মাত্র ১ রান করে, তাকে ফেরান নাহিদ রানা। এরপর ওয়েসলি মাধেভেরে ডাক মেরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে। ক্লাইভ মাদান্দে করেন ২ রান, আর ব্র্যাডলি ইভান্সকে ৩ রানে এলবিডব্লিউ করেন নাহিদ রানা।
৮ উইকেটে মাত্র ৭০ রান নিয়ে এমন বিপর্যয়ের পর গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল জিম্বাবুয়ে। তবে নবম উইকেট জুটিতে ইনোসেন্ট নিয়ামহুরি ও রিচার্ড এনগারাভা দারুণ প্রতিরোধ গড়ে স্বাগতিকদের লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
তাদের জুটিতে যোগ হয় মূল্যবান ৬৩ রান। নিয়ামহুরি ৩৩ রান করে আউট হন, আর এনগারাভা করেন ২৭ রান। তাদের দৃঢ়তায় জিম্বাবুয়ে অলআউট হওয়ার আগে সংগ্রহ দাঁড় করায় ১৪১ রান।
ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৪২ রান। শক্তিশালী বোলিং পারফরম্যান্সের পর এখন ব্যাটারদের দায়িত্ব স্বাচ্ছন্দ্যে লক্ষ্য ছুঁয়ে সিরিজে শুভসূচনা করা।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

