বিজ্ঞাপন

উত্তাল সাগরে থমকে গেছে মাছ শিকার, চরম সংকটে জেলে পরিবার

গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। বৈরী আবহাওয়া আর পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির কারণে থেমে গেছে মাছ শিকারের সব কার্যক্রম। জীবন বাঁচাতে খালি হাতেই গভীর সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক জেলে। সারি সারি ট্রলার এখন নোঙর করে আছে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পদ্মার স্লুইস খাল, বাদুরতলা, জিনতলা ও কাকচিড়া খালসহ বিভিন্ন স্থানে। অথচ প্রতিটি ট্রলারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের জীবিকা ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় মাছে ভরে ফেরার প্রত্যাশায় সাগরে ছুটে যাওয়া ট্রলারগুলো আজ নিস্তব্ধ হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জেলেদের চোখেমুখে হতাশা, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার ছাপ।

জেলেরা জানান, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন আশায় সাগরে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দেখা মেলেনি। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ধারদেনা করে আবার ট্রলার সাগরে পাঠানো হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও নিম্নচাপের কারণে মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও সেই অর্থের বড় অংশই আদায় করা সম্ভব হয়নি।

ট্রলার মালিক ছগির আক্ষেপ করে বলেন, “৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই দফায় ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি। দুইবারই লোকসান হয়েছে। পরে ঋণ করে আবার ট্রলার পাঠালেও গভীর সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় ফিরে আসতে হয়েছে। এখন আবার ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় সামনে কী হবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা এমনিতেই চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া তাদের সংকটকে আরও গভীর করেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে যেতে পারবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তিনি।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সহস্রাধিক ছোট-বড় ট্রলার খালি হাতে সাগর থেকে ফিরে এসে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, “১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ পায়নি। এতে তারা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। এখন বৈরী আবহাওয়া তাদের জন্য যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সহস্রাধিক ট্রলার ও জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে তারা আবার গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন।

এদিকে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় শুধু জেলেরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ট্রলার মালিক, মাছ ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : অপারেশনের টাকার জন্য দিশেহারা প্রবাসী মহসীন,চান প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন