ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা জেলা উত্তর জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নিষিদ্ধগোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ রাত ১২টা ১০ মিনিটে মামলাটি সাভার মডেল থানায় রুজু হয়। মামলার একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে নাগরিক।
মামলায় সালামত উল্লাহ রনি উল্লেখ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে সাভার মডেল থানাধীন তারাপুর ঈদগাহ মাঠে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান।
কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার পাঁচ থেকে ১০ মিনিট আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে পড়ে। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে কয়েকটি বাতিতে আলোর ব্যবস্থা করা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। সমাবেশস্থল তখনও অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। আয়োজকেরা বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপরও কর্মসূচি চলতে থাকে।
নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট সামনে, আনুমানিক রাত ৯টা ৪২ মিনিটে, হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। সমাবেশের ওই স্থানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক এবং এনসিপির অন্যান্য নেতারা অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন দিগ্বিদিক ছুটে যান। সমাবেশস্থলে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণস্থলে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় মো. শাহিন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদৎ হোসেন (৪০), ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাম্যান মো. মজনু (৪৫), এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাইফুল ইসলাম (২৫)সহ আরও অনেকে গুরুতরভাবে রক্তাক্ত ও আহত হন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা বিস্ফোরণকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে মামলা করার উদ্দেশ্যে নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানার দিকে অগ্রসর হন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এ বিস্ফোরণের পেছনে কোনো নিষিদ্ধগোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনসিপির সমাবেশ নস্যাৎ করা এবং প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. সালামত উল্লাহ রনি বলেন, “মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, আমরা সেটাই চাই। পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, “বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
পড়ুন : প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩টি বই সংরক্ষণের নির্দেশনা বাতিল করল সরকার
সা/


