বিজ্ঞাপন

বন্ধ হচ্ছে স্মার্ট প্রি-পেইড গ্যাস মিটার প্রকল্প, পুনর্বিবেচনার দাবি সংশ্লিষ্টদের

তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি এবং একাধিকবার প্রকল্প নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর স্মার্ট প্রি-পেইড গ্যাস মিটার সম্প্রসারণের একাধিক প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর অবশিষ্ট অর্থ এলএনজিসংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। আবাসিক খাতে গ্যাসের অপচয় কমানো, অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ এবং সিস্টেম লস হ্রাসে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত এ উদ্যোগ বন্ধের সিদ্ধান্তে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সাশ্রয়ের কার্যকর উদ্যোগ থেকে সরে এসে সরকার আমদানিনির্ভর এলএনজির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের দাবি, এ খাতকে ঘিরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির কাঠামো ভাঙা না গেলে ভবিষ্যতে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাসের সংকট নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক গ্রাহকরা।

এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি এনে দেওয়া স্মার্ট প্রি-পেইড গ্যাস মিটার প্রকল্পই এখন বন্ধের মুখে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ৬ হাজার ৪৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকার চলমান প্রকল্পগুলোর টেন্ডার ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্থগিত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রীয় গ্যাস সাশ্রয়ের এই উদ্যোগ বন্ধ করে শেষ পর্যন্ত কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১১ লাখ এবং এডিবির অর্থায়নে আরও ৬ লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের জন্য পৃথক ঋণচুক্তি সই হয়। এছাড়া কর্ণফুলী, বাখরাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির আওতায় আরও কয়েক লাখ মিটার স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল। তবে বর্তমানে এসব প্রকল্পের টেন্ডার একের পর এক স্থগিত রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার আবাসিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার করছেন। ফলে অধিকাংশ গ্রাহক এখনও পোস্ট-পেইড ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন, যেখানে প্রকৃত ব্যবহার যাই হোক না কেন, নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের গতি কমে যাওয়ায় বিদ্যমান গ্যাসের সর্বোচ্চ দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, জ্বালানি খাতকে ঘিরে একটি দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ভোক্তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, যে প্রকল্পের মাধ্যমে ভোক্তার ব্যয় কমছে, রাষ্ট্রের রাজস্ব সুরক্ষিত হচ্ছে এবং গ্যাসের অপচয় কমানো সম্ভব হচ্ছে, সেই প্রকল্প কেন বন্ধ করা হচ্ছে?

প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে বন্ধের আগে অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নয়ন সহযোগীদের অবস্থান এবং সর্বোপরি জনস্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

পড়ুন:

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন