বিজ্ঞাপন

গ্র্যামিজয়ী শিল্পী বনি টাইলার মারা গেছেন

আশির দশকের জনপ্রিয় ওয়েলশ পপ তারকা ও গীতিকার বনি টাইলার মারা গেছেন। কণ্ঠের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করা এই গায়িকা বুধবার (৮ জুলাই) রাতে পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বনি টাইলারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তার পরিবার ও টিমের পক্ষ থেকে দুঃখজনক এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বনির পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাতে পর্তুগালের একটি হাসপাতালে আকস্মিকভাবে বনি মারা গেছেন।’

বিবিসির প্রতিবেদনে অনুযায়ী, গত মে মাসে পর্তুগালে জরুরি অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর বনি টাইলারকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছিল। গত মাসে তার মুখপাত্র জানান যে, কোমা থেকে ফিরে এলেও তিনি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইয়োরওয়ার্থ গভীর শোক প্রকাশ করে বনি টাইলারকে এক ‘প্রকৃত আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওয়েলশ সেক্রেটারি জো স্টিভেন্স শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘তিনি ওয়েলশ সংগীতের এক আইকন, গ্র্যামি ও ব্রিট পুরস্কার বিজয়ী এবং আমার কৈশোরের কণ্ঠস্বর।’

১৯৫১ সালে ওয়েলসের নিথ-এ ‘গেনর হপকিন্স’ নামে জন্ম নেওয়া এই গায়িকার পথচলা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ পরিবার থেকে। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম একক গান ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’। একই বছর ‘ইটস আ হার্টঅ্যাক’ গানটি দিয়ে তিনি ইউকে এবং ইউএস চার্টের শীর্ষ তালিকায় উঠে আসেন।

তবে ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট’ গানটি তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। প্রথম ওয়েলশ শিল্পী হিসেবে আমেরিকার বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষস্থান দখল করার ইতিহাস গড়েন তিনি। জিম স্টেইনম্যানের লেখা এই গানটি সম্পর্কে বনি নিজেই কিছুদিন আগে বিবিসি-কে বলেছিলেন, ‘আমি এটি গাইতে কখনো ক্লান্ত হই না। আমি এটি ভালোবাসি কারণ সবাই এটি গাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে।’ এই গানের জন্য তিনি গ্র্যামি মনোনয়নও পেয়েছিলেন।

চলতি বছরই এই ঐতিহাসিক গানটি স্পটিফাইতে ১ বিলিয়নেরও বেশি (১০০ কোটি) স্ট্রিমের মাইলফলক স্পর্শ করে। এ নিয়ে বনি রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খুশি, যখন ভাববেন যে পৃথিবীতে মাত্র ৮.৩ বিলিয়ন মানুষ আছে।’ তবে নিজের সেরা গানটি থেকে খুব একটা রয়্যালটি পেতেন না জানিয়ে আফসোস করে বলেছিলেন, ‘ওহ, এটি আসলে কিছুই না, প্রায় শূন্যের কোঠায়।’

১৯৭৩ সালে বনি তার প্রথম প্রেমিক প্রোপার্টি ডেভেলপার রবার্ট সুলিভানকে বিয়ে করেন। ৪০ বছর পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখনও তাকে ভীষণভাবে ভালোবাসি এবং সেও আমাকে ভালোবাসে।’ এই দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।

এ সংগীতজ্ঞ ব্যক্তি নিজের জন্মগত নামটি কখনো পছন্দ করতেন না। ‘বনি টেইলার’র তার ছদ্মনাম। এ নামটি বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, ‘আমি একটি পত্রিকা নিয়েছিলাম এবং সেখানে পাওয়া সব নাম একটি তালিকায় ও পদবি অন্য তালিকায় লিখে রেখে দেই। সেসব থেকে সবকিছু ঘেঁটে “বনি টেইলার” নামটি বের করি; যা একটি দারুণ নাম।’

২০২৩ সালে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছ থেকে ‘এমবিই’ খেতাব পান বনি। চলতি বছরের জুনে ও ডিসেম্বরেও তার একাধিক কনসার্ট করার কথা ছিল।

পড়ুন : ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন 

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন