বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে সড়কের কাজ শেষ না হতেই সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি-চাটখিল ফোরলেন সড়কের কাজ শেষ না হতেই সড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সোনাইমুড়ি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলিয়া গ্রামে সোনাইমুড়ি-চাটখিল সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইসমাইল মোল্লা, ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. শহীদ উল্লাহ, ভুক্তভোগী নুর নবী, নোমান সিদ্দিকী, মনির হোসেন ও বাবুল মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৬০ সালের পর সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে ভুক্তভোগীরা তাদের মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে সড়কের পাশের পরিত্যক্ত জায়গায় তারা চাষাবাদ, মৎস্যচাষ ও ছোট দোকানঘর নির্মাণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালে সোনাইমুড়ি-চাটখিল-রামগঞ্জ সড়ককে ফোরলেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদনের পর পুনরায় ভূমি খালি করার নোটিশ পেয়ে তারা স্বেচ্ছায় দোকানঘর ও চাষাবাদ সরিয়ে নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে সোনাইমুড়ি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন চেম্পু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির ভূঁইয়া, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল ভূঁইয়া ও যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন অপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে কলেজ পুকুরপাড় থেকে শিমুলিয়া কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট জায়গা দখলের চেষ্টা করে।

অভিযোগকারীরা বলেন, অভিযুক্তরা পাশ্ববর্তী ভানুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এবং শিমুলিয়া গ্রামে তাদের কোনো জমি বা ওয়ারিশ নেই। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এ ধরনের দখলচেষ্টা চালাচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, তারা নিজেরাও বিএনপির কর্মী-সমর্থক হলেও দলেরই কিছু নেতার দ্বারা আজ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি মোতাহের হোসেন মানিক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে দখলদারদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার জানান, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। বিভাগটি প্রয়োজন মনে করলে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, শিমুলিয়ায় দখলের চেষ্টাকৃত ওই অংশসহ সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ সড়কে আমাদের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করাতে জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্টেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্টেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ পেলেই সব অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদ করা হবে।

পড়ুন:বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন