বিজ্ঞাপন

আগামীর খুলনা বিনির্মাণে কেডিএ ও জনগণের অংশীদারিত্ব জরুরি : মতবিনিময় সভায় বক্তারা

খুলনা শুধু একটি অঞ্চল নয়, এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রাণের কেন্দ্র। শিল্প নগরী থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক ও বর্ধিষ্ণু খুলনা গড়ে তোলার পেছনে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) সুদীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগরী বিনির্মাণের মূল চাবিকাঠি হলো জনগণের অংশীদারিত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই বলেছিলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা জনগণকে বুঝিয়ে দেবেন। আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি কেবল কেডিএ’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনতে নয়, বরং এই খুলনাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং ভাবনাগুলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করতে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “আগামীর খুলনা বিনির্মাণে কেডিএ ও জনগণের ভাবনা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মতবিনিময়কালে বক্তারা আরও বলেন, ‘আগামীর খুলনা বিনির্মাণ’ বলতে আমরা এমন একটি আধুনিক বৃহত্তর খুলনার স্বপ্ন দেখি, যেখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত আবাসন, যথাযথ নিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সবুজ ও মনোরম পরিবেশ থাকবে। আমাদের এই রূপসী খুলনাকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কীভাবে একটি স্মার্ট ও টেকসই ‘গ্রিন-সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আজ নতুন করে ভাবতে হবে। সভায় কেডিএ’র পক্ষ থেকে খুলনার উন্নয়নে গৃহীত নানামুখী উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো পরিকল্পনাই পূর্ণতা পায় যখন সেখানে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত প্রতিফলিত হয়। আজ উপস্থিত সুধীজন ও সম্মানিত নাগরিকবৃন্দের সাথে যে উন্মুক্ত মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি মূল্যবান পরামর্শ ও মতামত আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলে আমাদের মেধা, শ্রম ও দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে কেডিএ’কে শক্তিশালী করি। সরকারি উদ্যোগের সাথে জনগণের ভাবনার এই মেলবন্ধনই পারবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত ও উন্নত খুলনা উপহার দিতে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ্ হারুন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিসিবি’র পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিন, খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও কেসিসি’র সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি এবং খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার।

অনুষ্ঠানে কেডিএ’র পক্ষ থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে খুলনা অঞ্চলের নানাবিধ সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রায় অর্ধশত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনার হাতে একটি লিখিত প্রস্তাবনা তুলে দেন।

সভাপতির বক্তব্যে কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দেন এবং খুলনাবাসীর যাবতীয় বক্তব্য ও দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিরাজগঞ্জে ৫ হাজার গাছের চারা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে দোকানসহ ঘর বিতরণ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন