চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কোটি কোটি টাকার চুয়াডাঙ্গা-মুজিবনগর ভায়া দামুড়হুদা আঞ্চলিক সড়কের জায়গায় ২৫/৩০ ফুট গভীর করে অবৈধ বালু উত্তোলন ফলে একটি বড় অংশ বৃষ্টির পানির স্রোতে ধসের আশঙ্কায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগষ্টের অভ্যুত্থানের আগে পলাতক আওয়ামী লীগের দোসরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাস্তার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাত্র কয়েক ঘন্টার ভারী বর্ষণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলার চিৎলা- গোবিন্দহুদা ছটাংগার মাঠসংলগ্ন এলাকায় সড়কের জমিতে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করেছে পলাতক আওয়ামী লীগের দোসরা। ওই মামলা হামলা ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি প্রতিবাদ করেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এ ঘটনায় তারা যুবলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন বগা এবং সাবেক ইউপি সদস্য আবু সাঈদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর সড়কের জায়গায় ২৫/৩০ ফুট গভীর করে বালি উত্তোলন করে। এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে একটু বৃষ্টিতেই সড়কের পাশের মাটি ধসে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়ক টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের এখন কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা ৪/৫ ঘন্টার ভারী বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে জমে থাকা পানির প্রবল স্রোত সড়কের নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে রাস্তার নিচে ফাপা অংশ তৈরি হওয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পাশের অংশ দেবে যাওয়ারও লক্ষণ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় রাস্তা কেপে ওঠে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি আবার ঝুকির মুখে পড়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত ও সংস্কার করা সড়কের এমন অবস্থার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন বগা ও সাবেক ইউপি সদস্য আবু সাঈদ। তারা বলেন, রাস্তার পাশে তাদের কোনো জমি নেই এবং তারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের দাবি, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের জমি থাকলেও তা রাস্তা থেকে অনেক ভেতরে অবস্থিত।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আপাতত ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি কমলে এলজিইডির টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করবে। পাশাপাশি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তনু বলেন, স্থানীয়রা প্রকাশ্যে নূরনবী, বগা ও সাঈদ মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১২ কিলোমিটার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। তাই অভিযোগের অপেক্ষা না করে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে ঝুকিপূর্ণ সড়ক রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কোটি টাকার সরকারি সম্পদের পাশাপাশি যেকোনো সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

