রাজধানীর মহাখালীতে পরকীয়া প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে মামুন মিয়া (৩০) নামে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিউটি আক্তারকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বনানীর মহাখালী টিভি গেট এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরে গুরুতর অবস্থায় বাড়িটির মালিক মো. সুমন ওই উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। একপর্যায়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামুন মিয়ার মৃত্যু হয়।
নিহত মামুন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মালিহাটি গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে। গত ১ জুলাই তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা রেলওয়েতে চাকরিতে যোগ দেন। তবে ঢাকায় থাকতেন না। এছাড়া তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন।
হাসপাতালে সুমন জানান, শনিবার দুপুরে বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনে সেখানে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় মামুন মিয়াকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ওই সময় তার পেটে দু’টি ছুরিকাঘাত ছাড়াও পুরুষাঙ্গ কাটা ছিল। পরে দ্রুত মামুনকে উদ্ধার করে তিনি প্রথমে স্থানীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মামুন মিয়ার মৃত্যু হয়।
এদিকে মুঠোফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন মামুনের চাচা মোকসেদ আলী ভুঁইয়া। তিনি জানান, হাসপাতালে এসে মামুনের মরদেহ দেখতে পান তিনি। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই বাসাটি থেকে বিউটি আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করা হয়। তার শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। নিহত মামুন ও তিনি পূর্বপরিচিত। এছাড়া বিউটিরও স্বামী-সন্তান রয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বিউটি ও মামুনের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার বিউটি আক্তার বনানীর ওই বাসাটি ভাড়া নেয়। মামুন শনিবার সকালেই সেই বাসায় এসেছিল। পরকীয়া প্রেমের জেরেই বিউটি তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাতের পাশাপাশি পুরুষাঙ্গ কেটে দেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পড়ুন : রাজধানীতে ২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ঢামেকে ভর্তি


