পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদীর জায়গা দখল করে দেদারসে চলছে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। স্থানীয় মৃত সেকেন্দার শেখের ছেলে আব্দুল বাকী নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠেছে এই অবৈধ দখলের অভিযোগ। নদীর বুকে আরসিসি পিলার তুলে সরকারি জায়গায় এভাবে ভবন তোলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আর কি বলবো, সরকারি লোকজনও এসে মানা করে গেছে। কিন্তু উনি কারও কথাই শুনছেন না। নদীর মধ্যে এভাবে বিল্ডিং তুললে তো পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রুত এই অবৈধ ভবন ভেঙে সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হোক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অবৈধ নদী দখলের প্রেক্ষিতে গত ৬ জুলাই পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম অভিযুক্ত আব্দুল বাকীকে কাজ বন্ধের নোটিশ দেন। একই সাথে ৩ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও, সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে নির্মাণকাজ চালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। এমনকি পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভবন মালিক আব্দুল বাকী বলেন, জায়গাটা আমার মায়ের নামে।তবে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি আমতা আমতা করে বলেন, কাগজ আছে, দেখানো যাবে না। জমির নামজারি কার নামে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জমির নামজারি এখনো হাতে পাননি, করতে দিয়েছেন কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা দিচ্ছে না।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী এ প্রসঙ্গে জানান, আমি বিষয়টি জানার পরপরই ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে নির্দেশ দিয়ে কাজ বন্ধ করিয়েছি। সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে কাজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি থানা পুলিশকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে নোটিশ দিয়েছি এবং উপজেলা প্রশাসন ও থানাকে জানিয়েছি। বিল্ডিংয়ের চারপাশে পানি থাকায় এই মুহূর্তে সঠিক সীমানা মাপা যাচ্ছে না। পানি কমে গেলেই সীমানা নির্ধারণ করা হবে। যদি আমাদের জায়গা পাওয়া যায়, তবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
নদী আর সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এই আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং নদীটি অবৈধ দখলমুক্ত হয়এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা চাটমোহরবাসীর।
পড়ুন:রাজশাহীর চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে: প্রতিমন্ত্রী
ইমি


