বিজ্ঞাপন

পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে অবৈধ জাল ছিনতাই, মামলার প্রস্তুতি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার দায়ে জব্দকৃত চারটি বিশাল অবৈধ ‌‘চায়না দুয়ারি’ জাল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে জোরপূর্বক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা ও ফাঁড়িতে হামলার অভিযোগে অজ্ঞাত প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) হাওরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া জালগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে মাছ ধরার অবৈধ চারটি বড় চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে আদর্শ নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে পুলিশ। প্রতিটি জাল প্রায় আড়াই হাজার থেকে ২৬০০ ফুট লম্বা। জব্দকৃত জালগুলো ফাঁড়ির নিচে ভূমি অফিসে রাখা হয়েছিল। পরদিন ১২ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে ৪০-৫০টি নৌকায় করে ৩০০-৪০০ লোক আকস্মিকভাবে সেখানে হানা দেয় এবং জোরপূর্বক জালগুলো ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

আদর্শ নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ জানান, “সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী জালগুলো আটক করা হয়েছিল। আমরা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তারা শুনতে নারাজ ছিল। পুটিউগা গ্রামের শামসুদ্দিন তালুকদারের ছেলে জুয়েলের নেতৃত্বে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং মৎস্য আইনসহ দুটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে, মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুনের নেতৃত্বে পুলিশ আজ (সোমবার) হাওরে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া বিশাল জালগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার করেছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

জাল ছিনতাইয়ের মূল অভিযুক্ত জুয়েল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “জাল ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ এবং আমার একটি মাছের আড়ত আছে। হাওরের গরিব জেলেরা যখন বিপদে পড়েছিল, তখন তাদের পক্ষ হয়ে আমি মোহনগঞ্জ থানার ওসি ও এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলেছিলাম। একটা মানুষ সমস্যায় পড়লে কেউ না কেউ তো এগিয়ে যায়ই। আমি সেখানে সমাধানের জন্য গিয়েছিলাম। এখন কেউ অহেতুক দোষারোপ করলে আমার কিছু করার নাই।”

অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের বিষয়ে তিনি অজ্ঞতার দাবি করে বলেন, “এই জাল দিয়ে মাছ ধরা যে সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা অবৈধ, তা আমরা জানি না।”

জাল ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন হাওরপাড়ের সাধারণ জেলেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, ডিঙ্গাপোতা হাওরে গত ২৮ জুন পর্যন্ত মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা তারা দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মেনে চলেছেন।

তাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে বছরের এই সময়ে হাওরে মাছ ধরা কখনো নিষেধ ছিল না। এনজিও এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা জাল কিনেছেন। বর্তমান মৌসুমে মাছ ধরতে না পারলে হাওর অঞ্চলের শত শত জেলে পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হবে। সাধারণ জেলেদের ভাষ্যমতে, আদর্শ নগরে সংঘটিত জাল ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পড়ুন:জামালপুরে নদী ভাঙনের শিকার পরিবারের মধ্যে ৩৫ বিজিবির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

ইমি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন