বিজ্ঞাপন

প্রধান শিক্ষক নেই খুলনার ৬০৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, ধীরগতি নিয়োগ-পদোন্নতি প্রক্রিয়ায়

খুলনা জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। জেলার ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক তদারকি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল সংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে খুলনা সদরে ১১৩টি, কয়রায় ৮৫টি, পাইকগাছায় ৭৩টি, বটিয়াঘাটায় ৫২টি, ডুমুরিয়ায় ১১৩টি, তেরখাদায় ৬২টি, দাকোপে ৫৫টি, ফুলতলায় ৩৯টি, রূপসায় ৩৭টি এবং দিঘলিয়ায় ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ফলে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষকদের দায়িত্ব বণ্টন, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে অনেক বিদ্যালয়কে বাড়তি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি খুলনায় সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে ঘাটতি। জেলার ৬ হাজার ৩০৭টি অনুমোদিত সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৭ জন। শূন্য রয়েছে ৩৭১টির বেশি পদ। এর মধ্যে ফুলতলা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সহকারী শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। সেখানে নতুন জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়সহ প্রায় ৯৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেও কিছু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। খুলনা থেকে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : খুলনায় পাঁচ মাস পর মাটি খুঁড়ে ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী আটক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন