হবিগঞ্জের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা হয়৷ সোমবার (১৩ জুলাই) হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত কয়েকটি গ্রামে এ বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
ক্যাম্পেইনে প্রায় ৪০০টি পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী এবং আরও ২০০টি পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৫০টি গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিতে পশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি পৃথক দল সারাদিন কাজ করে।
এ কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার। দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় আটকে থাকা অসহায় মানুষের কাছে ড্রোনের মাধ্যমে শুকনা খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। বিজিবি জানায়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার দুর্গম এলাকায় দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে৷ পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ। তিনি বিজিবির মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের জন্য ৫৫ বিজিবির এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন এবং ড্রোনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অনেক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন, যা তাদের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় হবিগঞ্জ বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকবে বিজিবি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ সময় বিজিবির শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের মেডিক্যাল অফিসার মেজর ইদি আমিন, ডা: অরুন্ধতি পাল, ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক ক্যাপ্টেন সাফায়েত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : সুনামগঞ্জে সীমান্তবাসীর পাশে বিজিবি, ৫ শতাধিক মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা


