বিজ্ঞাপন

বাজেট নিয়ে প্রশ্ন আইএমএফের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনার বরাদ্দ বৃদ্ধি, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ব্যয় রাখায় সরকারের অর্থ সংস্থানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্থাটির প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলে।

বিজ্ঞাপন

আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার, খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি ব্যয় এবং সরকারের সামগ্রিক ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন। আগামী পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে প্রতিনিধি দল।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সরকার ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় এবং আইএমএফও এ বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে। তিনি বলেন, কোন সংস্কার কখন প্রয়োজন, সেটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই সরকার এগোবে।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের আর্থিক সংস্কার, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির প্রতি আইএমএফ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির ভিত্তি, নীতিমালা এবং বাস্তবায়নের ধাপ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছে। সরকারের প্রস্তাবিত নীতিগত কাঠামোর সঙ্গে আইএমএফ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তবে অর্থ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় সরকার ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সংস্থাটির মতে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের মতো খাতে এখনো ভর্তুকি কমানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে আইএমএফ।

কিন্তু বাস্তবে ভর্তুকি ব্যয় কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া ভর্তুকি শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। ফলে বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকারিভাবে ভর্তুকি অনুমোদিত নয়, সেসব ক্ষেত্রেও ভর্তুকির হিসাব অন্তর্ভুক্ত করে বড় অঙ্কের বকেয়া দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে আইএমএফ। সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে প্রতিনিধি দল বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে।

অন্যদিকে, চলতি মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে বাজেটে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আইএমএফ প্রতিনিধি দল নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ কীভাবে সংস্থান করা হবে, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে।

গত দুই দিনের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে সরকারের উপস্থাপিত রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা প্রতিনিধি দলকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাদের মতে, ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সেই ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

উল্লেখ্য, আগের ঋণ কর্মসূচির কিস্তির বাইরে বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার জন্য আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা এবং রাজস্ব আহরণ নিয়ে আরও গভীর মূল্যায়ন করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

পড়ুন:দেশের বাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন