একই ছাদের নিচে তিন বোনের বেড়ে ওঠা। একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া। পাশাপাশি বসে পড়াশোনা। একই টেবিলে বই খুলে স্বপ্ন দেখা। সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবে ধরা দিয়েছে। বরগুনার অঙ্কিতা, অনুষ্কা ও অন্বেষা একই পরিবারের এই তিন বোন সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে বরগুনার শিক্ষাঙ্গনে গড়েছে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের গৌরিচন্না হাইসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই তিন শিক্ষার্থীর সাফল্য এখন জেলাজুড়ে আলোচনার বিষয়।
স্থানীয় শিক্ষাবিদরা বলছেন, বরগুনার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পরিবারের তিন আপন বোন একসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করায় এটি শুধু একটি ফলাফলের গল্প হিসেবেই নয় বরং এটি অধ্যবসায়, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সুশিক্ষার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন বোনের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলী গ্রামে। মা কাজল রানী গৌরিচন্না হাইসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বাবা চিন্ময় মালদার গৌরিচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শিক্ষক পরিবারে বেড়ে উঠলেও তাদের কাছে ভালো ফলাফলের চেয়েও বড় ছিল নিয়মিত শেখা, শৃঙ্খলা ও ভালো মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। তাই পরীক্ষাকে কখনো ভয় হিসাবে না দেখিয়ে বরং শেখার একটি ধাপ হিসেবে দেখানো হয়েছে সবসময়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বই পড়ার অভ্যাস, সময়মতো বিশ্রাম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এসবই ছিল তাদের বেড়ে ওঠার অংশ।
বরগুনা আত্মোন্নয়ন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম বলেন, একই পরিবারের তিন বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এটি বরগুনার জন্য যেমন গর্বের তেমনি একই সঙ্গে দেশের অন্য পরিবারগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
শুধু পাঠ্যবই নয়, সংস্কৃতিচর্চাতেও সমান মনোযোগী এই তিন বোন। তারা বরগুনা শিল্পকলা একাডেমির নাট্য বিভাগের শিক্ষার্থী। শিল্পকলা একাডেমির নাট্য বিভাগের প্রশিক্ষক ও ক্যালিক্স একাডেমির সহকারী শিক্ষক ইফরাত জাহান ইমা বলেন, ওদের মধ্যে ভদ্রতা, শৃঙ্খলা ও শেখার আগ্রহ সবসময় চোখে পড়ে। নাট্যচর্চা তাদের আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপনা দক্ষতা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বরগুনা সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের (সেইফ) সভাপতি এহসান আহমেদ নোমান বলেন, পারিবারিক যত্নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীর আন্তরিক প্রচেষ্টা একসঙ্গে থাকলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন সম্ভব। এই অর্জন আমাদের এমনটাই দেখিয়ে দিয়েছে।
তিন কৃতী শিক্ষার্থীর মা কাজল রানী জানান, অঙ্কিতা ও অনুষ্কার স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়া। আর অন্বেষা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।
তিনি বলেন, আমি কখনো ওদের শুধু নম্বরের জন্য পড়তে বলিনি। চেয়েছি ওরা ভালো মানুষ হোক। নিয়মিত পড়ুক এবং নিজের স্বপ্নকে ভালোবাসুক। ঈশ্বরের কৃপায় আজ ওরা এই অর্জন করেছে। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।
পড়ুন : প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
সা


