আষাঢ়ের বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। ঠিক সেই সময় শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঘণ্টার ধ্বনি আর জয় জগন্নাথে মুখরিত হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহর। ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে উদ্যাপিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় পৌরশহরের রাধানগর শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রথযাত্রার সূচনা হয়। বিশাল কাঠের রথের দড়িতে একসঙ্গে হাত রাখেন নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ। হাজারো কণ্ঠে হরিনাম, কীর্তন আর জয়ধ্বনিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের সমাগম শুরু হয়। বিকেলের দিকে জনসমুদ্রের রূপ নেয় পুরো এলাকা। রঙিন পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু ও তরুণদের উপস্থিতিতে উৎসব পায় ভিন্ন মাত্রা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রথযাত্রায় অংশ নেন। কেউ রথের দড়ি টানেন, কেউ প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন, আবার কেউ ভক্তিময় এই আয়োজন ক্যামেরাবন্দী করেন।
রথটি রাধানগর মন্দির থেকে বের হয়ে আখাউড়া-কসবা সড়ক প্রদক্ষিণ করে দাসপাড়া মন্দিরে পৌঁছায়। পুরো পথে দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ রথযাত্রা উপভোগ করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, রথের দড়ি টানলে ও জগন্নাথ দেবের দর্শন করলে কল্যাণ ও মঙ্গল লাভ হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়ায় প্রতিবছরই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ জুলাই দাসপাড়া মন্দির থেকে উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান ছিল। পুরো শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ ও সাধারণ সaম্পাদক অলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, “শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রায়ও সবার উপস্থিতি কামনা করছি।”
ধর্মীয় আচার পালনের গণ্ডি ছাড়িয়ে আখাউড়ার রথযাত্রা এখন স্থানীয় ঐতিহ্য ও সম্প্রীতিরও এক অনন্য উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেই ঐতিহ্য আরও একবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

