শতশত নারী পুরুষ দড়ি টেনে হাঁটছেন সামনের দিকে। ক্লান্তি যেন ছুঁতে পারছিল না তাদের। ফটিকছড়ির ধর্মপুর আজাদী বাজারের উত্তর মাথা থেকে শুরু হয় এই যাত্রা। শোভাযাত্রাটি আজাদী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে ফটিকছড়ির আজাদী বাজারে রথযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ নামহট্ট সংঘ ও আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভবনামৃত সংঘ ইসকনের উদ্যোগে আজাদী বাজার শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির থেকে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ফুল ফল সুসজ্জিত রথযাত্রায় অংশ নেন নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু ভক্তবৃন্দ।
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস মত, জগতের নাথ যিনি তিনি-ই জগন্নাথ। ভগবান শ্রী জগন্নাথদেব, ভাই বলরাম ও বোন দেবী সুভদ্রাকে নিয়ে কাঠের তৈরি সুসজ্জিত রথে ভ্রমনের নাম রথযাত্রা। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে।
হিন্দুরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, রথযাত্রায় ভগোবান জগন্নাথদেবের দর্শণ পেলেই মানুষের মুক্তি লাভ হয়। অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষকে আর পুন:জন্ম নিতে হয় না। আর এ কারনেই রথযাত্রায় রথের দড়ি টানতে হাজারো ভক্তদের সমাগম হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক সুমন দেব, মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি দয়াল কান্তি রায়, ডাক্তার বাবুল দাশ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কলিবিগ্ন গৌরদাশ অধিকারী, পুরোহিত সেবা ভক্তি দাশ অধিকারী।
আজাদী বাজার শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির রথযাত্রা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ৯ দিনব্যাপী নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- মঙ্গল আরতি, দর্শন আরতি, মহাভোগরাগ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, হরিনাম সংকীর্তন, মহাপ্রসাদ বিতরণ, ভাগবত কথা, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, আরতি কীর্তন প্রভৃতি।
পড়ুন : আখাউড়ায় রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল


