ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবীর নেতৃত্বে মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে মতিঝিল থানা পুলিশ। ১৭ জুলাই তাদের গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে আরো একজন সহযোগীর নাম পাওয়া গেলে ওই সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া রিজন’কেও গ্রেফতার করা হয়। বাপ্পি এবং রিজন ছাড়া বাপ্পির অপর তিন সহযোগীরা হলেন, মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮) শাকিল (২৭) ও মো: মানিক কাজী (৫০)।
এই ৩ জন সবুজবাগ থানার অপর একটি হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদেরকে ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় মতিঝিল বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার ।
সবুজবাগ থানার মামলা নং-২৬, তাং-১৭/০৭/২০২৬খ্রিঃ,
ধারা-৩৬৪/৩৪২/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৪, পেনাল কোড-১৮৬০
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বাপ্পি এবং রিজন জানায় বাপ্পির অফিসে চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে গতকাল রাতে দক্ষিণ কমলাপুরস্থ তানিম রেজা বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে তার দেখানো মতে একটি রিভলবার, দুইটি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড রিভালবারের গুলি, ২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি বিদেশি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বাপ্পি এবং রিজন এর নামে মতিঝিল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ । মতিঝিল মামলা নাম্বার ১৬, তারিখ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ধারা: The Arms Act 1878 এর 19A/19(f)
উল্লেখ্য যে, চাঁদার দাবিতে ১৯ মে ২০২৬ দক্ষিণ কমলাপুরে একজন ব্যবসায়ীর অফিসে সন্ত্রাসীরা গুলি বর্ষণ করলে উক্ত ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা নং- ১৭, তারিখ-২০/০৫/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩৮৫/৩০৭/৪২৭/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। উক্ত ঘটনার তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের নাম পাওয়া গেলে বিভিন্ন কৌশলে পালিয়ে থাকায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। উক্ত মামলায় তানিম রেজা বাপ্পি ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া রিজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাপ্পি সংক্রান্তে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, সে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। বিভিন্ন শ্যুটিং ইনসিডেন্ট এর সাথে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। মতিঝিল অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সে চাঁদাবাজি করে আসছিল কিন্তু কেউ অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
ধৃত আসামীদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত বাপ্পির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ সহ বিভিন্ন অভিযোগে ইতিপূর্বে কমপক্ষে সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাপ্পির অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
পড়ুন : কুয়েতে ইরানের হামলায় বিমানের সিডিউল বিপর্যয়
সা/


