রাজধানীর পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ঐতিহ্যবাহী সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন নৌকা মাঝিরা। শনিবার সকালে নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ রেখে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ গুদারাঘাট এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় নৌকা মাঝিরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর পাশাপাশি সদরঘাট টার্মিনালের ৪ ও ৫ নম্বর পল্টুন অপসারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সিমসন ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে যাত্রী পারাপার কমে গেছে। ঘাটটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে পাইকারা আসা যাওয়া কমে যাওয়ায় যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা মাঝিরা।
আন্দোলনরত মাঝিরা জানান, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো সিমসন ঘাট বুড়িগঙ্গা নদীতে খেয়া পারাপারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাট। পূর্বে এই ঘাট ব্যবহার করে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সহজেই যাতায়াত করতেন। বর্তমানে ঘাটটি বন্ধ থাকায় তাদের ওয়াইজ ঘাট হয়ে ঘুরে আসতে হয়। অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হওয়ায় অনেক পাইকার আর আসতে আগ্রহী হন না। একই সঙ্গে মাঝিদেরও বেশি দূর নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে, যা তাদের শ্রম ও সময় ব্যয় দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ঘাট মাঝি শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কিসলু অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা সদরঘাটের লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে একতরফাভাবে সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেন। তার দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে মাঝিদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জানা যায়, ২০০৮ সালে হঠাৎ করেই বিগত সরকারের সময় সিমসন ঘাটটি বন্ধ করে দেয়। সেই সময় ব্যবসায়ী ও মাঝিদের আন্দোলনের মুখে ঘাট চালু করে দেয় সরকার। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আবারো বিআইডব্লিউটিএর অসাধু কর্মকর্তারা লঞ্চ মালিকদের সুবিধা দেয়ার উদ্দ্যেশে জোড় পূর্বক ঘাট বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে লঞ্চ রাখার জন্য পল্টন বসিয়ে দেয়। এতে করে কালিগঞ্জের ব্যবসা বানিজ্য স্থবির অবস্থা নেমে আসে এবং নদীতে মাঝিদের নৌ পারাপারে যাত্রীও কমে যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার একই দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পড়ুন : দিনাজপুরে এলআইসি বীমা কর্তৃক মৃত্যু দাবীর চেক হস্তান্তর


