নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারো মার্জিন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শুরু থেকে বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ খান সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব আইন তৈরি করবেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন। কিন্তু প্রস্তাবিত মার্জিন আইনের বেশকিছু নতুন বিষয়, পুঁজিবাজারে তৈরি করেছে আতঙ্ক।
বিশেষ করে বীমা খাতের কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে পিবি রেশিও বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ প্রতিটা শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্যকে যদি বুক ভ্যালু বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু দিয়ে ভাগ করলে যে রেশিওটা দাঁড়ায় সেটিকে প্রাইস টু বুক ভ্যালু বা পিবি রেশিও বলে। নতুন খসড়ায় বলা হয়েছে, বীমা কোম্পানির পিবি রেশিও ১-এর বেশি হলে তা মার্জিনযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। আর এটিকে কেন্দ্র করেই পুরো পুঁজিবাজারে তৈরি হয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। টানা কমছে বীমা খাতের শেয়ার দর।
তবে এ ব্যাপারে উদ্বেগের কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছে কমিশন। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম নাগরিককে জানান, এখন এই রেশিও নিয়ে যেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, সেইটা আমরা বলবো, এটা একটা প্রস্তাবনা মাত্র, চূড়ান্ত নয়। এখানে যদি কারো অবজেকশন থাকে, অথবা কোন ধরণের পরামর্শ থাকে, কমিশন এটা সুবিবেচনা করবে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তি হওয়ার দরকার নেই। এটা ফাইনাল হয়ে গিয়েছে, এমন নয়।
আবুল কালাম আরও বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের বলতে চাই, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর সেকশন ৩৩ অনুযায়ী এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইন, ১৯৯৩ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী, যে কোন বিধিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে বিএসইসি মূলত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা ড্রাফট তৈরি করে। সেই ড্রাফটা আবার অংশীজনদের জন্য, জনগনদের জন্য, মতামত, পরামর্শ, এবং আপত্তি আহবান করে প্রকাশ করা হয়। আর জাতীয় পত্রিকায় এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে দুই সপ্তাহের সময় মার্জিন আইন বিধিমালার প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে, অংশীজনদের উদ্দেশ্যে তাদের জন্য কমিশনের বলা হলো, এটি বিসেকের একটি প্রস্তাবনা মাত্র। এখানে দুই সপ্তাহ সময় রয়েছে। তাদের যে সমস্ত মতামত, পরামর্শ, বা আপত্তি রয়েছে সেই বিষয়গুলো কমিশনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিলে, কমিশন প্রতিটা পরামর্শ, মতামত, সবগুলো বিবেচনা নিয়েই এই বিধিমালাকে সংশোধন করবে।
বর্তমান কমিশন সবসময় বাজার এবং বিনিয়োগকারী বান্ধব। বাজারের জন্য যেটা সহজ এবং প্রয়োগের জন্য সহজ হবে, বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ বান্ধব হবে, কমিশন সেভাবেই কাজ করবে। কাজেই বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কোন কারণ নেই বলে জানান বিএসইসির মুখপাত্র।
এদিকে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, মার্জিন ঋণে নেওয়ার ক্ষেত্রে পিবি রেশিও বাদ দেওয়া হবে। চূড়ান্ত আইনে আগের মতো পি/ই রেশিওকেই বিবেচনা রাখা হচ্ছে।


