ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের ফাইনাল শেষ হয়েছে গত ১৯ জুলাই। তবে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। এবার ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবিতে শুরু হয়েছে অনলাইন পিটিশন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জডটওআরজিতে চালু হওয়া ওই আবেদনে ইতোমধ্যে ৬১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
পিটিশনটি শুরু করেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থক গিসেলা সানচেজ। আবেদনে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে ফাইনাল পরিচালনাকারী স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচে এমন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত ছিল, যা খেলার গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো যাচাইকৃত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বরং পুরো বিষয়টি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে ফিফার প্রতি।
তবে ক্রীড়া আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন অনলাইন পিটিশনের কোনো বাধ্যতামূলক আইনি বা বিধিবদ্ধ ক্ষমতা নেই। সাধারণত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, যখন প্রতিযোগিতার নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সে ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কেবল অনলাইন স্বাক্ষরের ভিত্তিতে বিশ্বকাপের ফাইনালের ফল পরিবর্তন বা ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা বাস্তবে খুবই সীমিত।
এ ধরনের অনলাইন প্রতিবাদ অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে নতুন নয়। এর আগে স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেমিফাইনাল নিয়েও একই ধরনের একটি ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালু হয়েছিল। সেখানে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করে দাবি তুলেছিলেন, স্পেন যে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল, তার আগে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কিত ঘটনার কারণে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করা উচিত। তবে সেই আবেদনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গৃহীত হয়নি।
গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। এই জয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে স্প্যানিশদের মাথায়।
ফাইনালের পর আর্জেন্টিনাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। হাজার হাজার সমর্থক দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমে জাতীয় দলকে অভিনন্দন ও সমর্থন জানান। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। তবে রাজধানী বুয়েনেস এইরেসের কয়েকটি এলাকায় উদ্যাপন ও বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষরের সংখ্যা বাড়লেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ীও বিশ্বকাপ ফাইনালের ফল পরিবর্তন বা ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।


