বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে মুখ খুললেন বলিউড তারকারা

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। বহুল আলোচিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং জবাবদিহির দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। শনিবার (২৫ জুলাই) তার এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক তারকা। অনেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এটিকে গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও তরুণদের ঐক্যের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

গত এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পরে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিলে আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস ইনস্টাগ্রামে সাংবাদিক ফে ডি’সুজার একটি পোস্টে হাততালি, উদযাপন এবং লাল হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। গায়ক আরমান মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, “যুবসমাজের শক্তি।”

আন্দোলনের শুরু থেকেই সরব থাকা অভিনেতা প্রকাশ রাজ লেখেন, “অভিনন্দন আমার প্রিয় ককরোচরা, প্রিয় সোনম ওয়াংচুক স্যার এবং তরুণদের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেককে। আপনারা প্রমাণ করেছেন, একটি সরকারকেও নতজানু করা যায়।” অভিনেতা বিজয় ভার্মা ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল–এর একটি গানের লাইন উদ্ধৃত করে লেখেন, “আচ্ছা চলতা হুঁ, দুয়াওঁ মে ইয়াদ রাখনা।”

অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পেরে তিনি গর্বিত। তার ভাষায়, “তরুণদের যৌবন নষ্ট হয়—এ ধরনের প্রচলিত ধারণার এখন অবসান হওয়া উচিত। ভারতের তরুণদের ধন্যবাদ।”

অন্যদিকে অভিনেতা-নির্মাতা রাহুল রবীন্দ্রন তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির চাকরি হারানো উদযাপনের বিষয় নয়, তবে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের ব্যর্থতা ও অদক্ষতার জন্য জবাবদিহির আওতায় আসা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সংকটের কথাও তুলে ধরেন। তার দাবি, ভারতে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে, বহু গ্রামীণ স্কুলে কার্যকর শিক্ষক নেই এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই। তিনি প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিচারেরও দাবি জানান।

মুম্বাইয়ে আন্দোলনের সমর্থনে অংশ নেওয়া অভিনেতা মানভ কৌল লেখেন, “আমি তোমাদের ভালোবাসি, যুবসমাজ। এই দেশ এখন তোমাদের হাতে। অনেক অনেক অভিনন্দন। জয় হিন্দ।” অভিনেতা ইশান খাট্টার ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লেখা একটি পোস্টার হাতে নিজের ছবি প্রকাশ করে লেখেন, “আজ ভারত জিতেছে। আজ গণতন্ত্র জিতেছে। আমি এই ভারতের জন্য গর্বিত।” অভিনেত্রী আদিতি রাও হায়দারিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর থেকে ভারতের সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করলে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, নিট প্রশ্নফাঁস মামলার সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ভারতের যুবশক্তিই দেশের প্রকৃত শক্তি। তিনি দাবি করেন, দেশের তরুণদের বিভ্রান্তির পথে ঠেলে দেওয়া উচিত নয় এবং যন্তর মন্তরের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশবিরোধী শক্তি যেন কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই বিবেচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তার পদত্যাগকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পড়ুন:ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথমবার বাংলাদেশের সিনেমা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন