বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকার শপিং মলে অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৫ জনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, স্বজনদের আহাজারি

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে এবং একজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি, ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

বিজ্ঞাপন

নিহতদের মধ্যে আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকার তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন ফাহিম, আপন ও নূর মোহাম্মদ। এছাড়া নিহত হয়েছেন শাহিন, ফয়সাল এবং মুন্সিগঞ্জের রিকাবীবাজারের তানিম। তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন।

নিহত ফাহিমের বয়স ছিল ২৬ বছর। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন। ফাহিমের ভগ্নিপতি সজিব জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগার পর একজন বের হতে পারলেও বাকি ছয়জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার আগের দিন পরিবারের সঙ্গে ফাহিমের শেষবার কথা হয়েছিল।

ফাহিমের মামা জানান, তারা মৃত্যুর খবর পেলেও এখনো মরদেহের অবস্থা কিংবা কীভাবে দেশে আনা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।

নিহত আপনের বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা আলী মিয়া। তিনি জানান, সকালে ফোনে অগ্নিকাণ্ডে ছেলের মৃত্যুর খবর পান।

আপনের চাচা আব্দুল মোতালেব জানান, যে দোকানটিতে আগুন লাগে সেটি ভবনের নিচতলায় ছিল। নিহতরা দোকানের উপরের দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে ছিলেন। দোকানের ১৫-১৬ জন কর্মী কাগজপত্রের কাজের জন্য বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।

৪৯ বছর বয়সী নূর মোহাম্মদ দীর্ঘ নয় বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তার খালাতো ভাই আবুল হোসেন জানান, আগুনে নিহতদের মরদেহ পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছে। নিহত শাহিনও তাদের আত্মীয়।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক রতন বলেন, দোকানের কোটি টাকার ক্ষতির চেয়েও তার কাছে বড় বেদনার বিষয় হলো একসঙ্গে ছয়জন কর্মীকে হারানো। নিহতদের পরিবারের কাছে কী জবাব দেবেন, সেই আক্ষেপই এখন তাকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকে স্তব্ধ নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়ন। এখন স্বজনদের একটাই অপেক্ষা—প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষ বিদায় জানানোর।

পড়ুন:দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন