গত এক সপ্তাহ ধরে নাটকীয়তা চলছে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে। এক অফিসে অফিস করেছেন দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে সরকারি দফতরগুলোতে। শুরু হয়েছে নানান গুঞ্জন। অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ঠিকাদারসহ সেবাগ্রহীতারা।
জানা গেছে, গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মো.সাইফুল ইসলাম ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে যোগদান করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ঢাকা হেড অফিস থেকে আব্দুল আজিজ নামে এক প্রকৌশলীকে চলতি মাসের ১৫ গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে বদলীর আদেশ জারি হয়। আর সাইফুল ইসলামকে ঢাকা হেড অফিসে সংযুক্ত করা হয়। সেই বদলী আদেশ নিয়ে চলতি মাসের ২১ তারিখে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে যোগদান করেন আব্দুল আজিজ। গত আটদিন হলে একই অফিসে দুই নির্বাহী দাবি করে অফিস করছেন তারা দুই জনই। একে বিপাকে পড়ছেন দপ্তরের ঠিকাদারসহ সেবাগৃহীতারা।
সরেজমিনে গাইবান্ধা এলজিইডি অফিসে গিয়ে দেখা যায়। নির্বাহী প্রকৌশলী লেখা নেমপ্লেট রুমে দুইজন ব্যক্তি কাজ করছেন। তারা দুই জনই নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করছেন। অফিসে অন্যান্য কর্মচারীরা আছে দৌঁড়ের উপর। ঠিকাদাররা বিভিন্ন রুমে আড্ডা দিচ্ছেন। অনেকেই আবার নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে কে দায়িত্বে থাকবে, সেই বিষয় নিয়ে হিসাব কষছেন। আবার অনেক ঠিকাদার তাদের বিলসহ অন্য হিসাব নিয়ে আগের দায়িত্ব থাকা নির্বাহীর কাছে ছুঁটছেন। অনেক ঠিকাদারের কপালে দুশ্চিন্তায় ভাঁজ পড়ছে।
নাম প্রকাশ করার না শর্তে এলজিইডির এক কর্মচারী বলেন, আগের স্যারই থাকবে। এই অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন স্যারের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জে। ওখানে আমাদের দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি। ওনার ছেলের সাথে মোত্তাকিন স্যার লবিং করছেন আগের স্যারকে আটকানোর জন্য।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের স্ট্যানো নিজাম উদ্দিন ও অফিস সহকারী নাছিমা আক্তার বলেন, আমরা সকাল নয়টার সময় থেকে অফিস শুরু করি। আমরা ছোট চাকুরি করি ভাই, কোন স্যারের সম্পর্কে কিছু বলতে পারবো না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার বলেন, দুইজন ব্যক্তি নির্বাহীর দাবি করছেন। আমরা চিপায় আছি। সাইফুল স্যার তো ম্যানুয়াল অনুয়ারি কাজের দুই ভাগ টাকা অনুমোদনের সময় নিয়েছে। এখন বর্তমান যিনি ঢাকায় থেকে আসছে ওনি যদি আবার আগের জনের হিসাব না মানে, তাহলে ব্যবসায় বাতি জ্বলবে সকল ঠিকাদারের। নির্বাহীকে কিসের জন্য কাজের বরাদ্দের দুই ভাগ (পাসেন্ট) দিতে হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন ঠিকাদার কাজ পাইলে বরাদ্দের দুই পার্সেন্ট টাকা কাজ শুরুতে দিয়ে নোহা বা কাজের অনুমতি নিতে হয়। এরপর কয়েক দফায় পার্সেন্ট দিয়ে হয়। এটা প্রায় ২০- ২৫ বছর হলে দিয়েই আসছি। পাগলা বেতনের টাকা দিয়ে কোন প্রকৌশলী চলতে পারবে।
সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের পক্ষে সাফাই গিয়ে বলেন, নতুন স্যারের বিষয়ে আমি কোন চিঠি পাইনি। আপনারা যেটুকু জানেন আমিও সেটুকু জানি। তবে নতুন স্যার বিভিন্ন সাইট পরিদর্শনও করেছেন এটি জানি আমি, এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
তবে এলজিইডি’র বদলিপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ চলতি মাসের ১৫ তারিখে হয়েছে মেইলে পেয়েছি ১৬ তারিখে। সবেমাত্র আট মাস হয়েছে আমার এই কর্মস্থলে। সাধারণ বদলির বিষয়টি আমি যতদুর জানি আমাদের এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হয়। তবে হঠাৎ করে বদলি করার কোন মানে হয়। দপ্তরে আমার অসম্পূর্ন অনেক কাজ আছে। সেগুলো সম্পূর্ন করে ঠিক সময়ে দায়িত্ব বুঝে দিব। এর মধ্য এমনও খবর আসতে পারে আমি এখানেই বহাল আছি।
অপরদিকে নবাগত এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, আমি নতুন এখানে জয়েন করেছি এক সপ্তাহ আগে। আমাকে দায়িত্ব বুঝে না দিয়ে তালবাহনা শুরু করছে। ইচ্ছাকৃতভাবে আগের নির্বাহী প্রকৌশলী এমন আচরন করছে।
পড়ুন : টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ড: তদন্ত বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য


