বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে ইন্টারনেট লাইনে কাজ করতে গিয়ে যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইন্টারনেট লাইনের কাজ করতে গিয়ে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই হাত হারিয়েছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ মো. সোহান। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোহান কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা পলানপাড়া এলাকার রকি আহমেদের ছেলে। পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তিনি স্থানীয় ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসায়ী হানিফ ও তারেকের অধীনে কাজ করতেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে ২০২৬ দুপুরে উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় ইকোনিটস গার্মেন্টসের সামনে ইন্টারনেট লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে সোহানকে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে লাইন মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়। সোহান প্রথমে উঠতে অনীহা প্রকাশ করলেও তাকে জোরপূর্বক খুঁটিতে উঠানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

খুঁটিতে ওঠার পরপরই তিনি উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর দগ্ধ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করেন।

প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই হাত সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় জীবন রক্ষায় উভয় হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। এছাড়া ঘাড়, বুক ও পায়ের বিভিন্ন অংশেও গুরুতর দগ্ধ হয়েছে।

হাসপাতালে ছেলের শয্যার পাশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা রকি আহমেদ বলেন, “গরিবের ছেলে বলে কি ওর জীবনের কোনো মূল্য নেই? পেটের দায়ে কাজ করতে গিয়ে আজ আমার ছেলে দুই হাত হারিয়েছে। যারা তাকে জোর করে খুঁটিতে উঠিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় রকি আহমেদ বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ভাতারিয়া পূর্বপাড়া এলাকার হানিফ (৩০), পিতা- আব্দুর রহিম এবং তারেক (৩০), পিতা- কবির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। 

ঘটনার পর থেকে সোহানের পরিবার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে আসছে।

পড়ুন : ৩ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন