বিজ্ঞাপন

ডেভিড ইমনের চাঁদার টাকা যেত অক্সিজেনের ইউছুপের হাতে!

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের টার্গেট করে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করত একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদে সংগ্রহ করা সেই চাঁদার টাকা প্রথমে পৌঁছাত নগরীর অক্সিজেন এলাকার বাসিন্দা ইউছুপের হাতে। পরে হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সেই অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হতো গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদা দাবির আগে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ব্যবসা, আর্থিক সামর্থ্য, নির্মাণাধীন ভবন এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এ কাজে এলাকাভিত্তিক সোর্স ব্যবহার করত চক্রটি। তথ্য সংগ্রহের পর বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হতো। টাকা না দিলে গুলি, হামলা কিংবা ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হতো।

পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, পুরো চক্রটি ছিল সুসংগঠিত। তথ্য সংগ্রহ, চাঁদার টাকা আদায় এবং হামলা-ভাঙচুর—প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল কাজ করত। নির্ধারিত স্থান বা ভুক্তভোগীর বাসা থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করে তা নগরীর জিইসি মোড় এলাকার বনৌজা রেস্টুরেন্টে ইউছুপের কাছে জমা দেওয়া হতো।
সেখান থেকে তিনি হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে দিতেন ডেভিড ইমনের কাছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নগদে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো। যারা টাকা সংগ্রহ করতেন, তারা সাধারণত ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন না। তথ্য সংগ্রহ, টাকা আদায় এবং হামলা-ভাঙচুর—সবকিছুর জন্যই পৃথক টিম ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ইউছুপকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করা গেলে চাঁদাবাজির টাকার লেনদেন, হুন্ডি নেটওয়ার্ক এবং পুরো সিন্ডিকেট সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদেরও নির্ভয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

পড়ুন : লোকসভায় প্রতিবেদন: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন