তীব্র গরমের মধ্যে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এ সংকটে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এতে জনজীবন, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সারাদিনে ১০ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ চলে যায়, কখনো কখনো ২ ঘন্টা ৩ ঘন্টাও স্থায়ী হয়। দিনের প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন তারা।
কলাগাছিয়া ইউনিয়নের দিনমজুর জনি আহমেদ বলেন, “সারাদিন রোদে কাম করি। বাসায় আইয়া যদি কারেন্ট না থাকে, তাইলে শান্তি কই? পোলা-মাইয়া লইয়া খুব কষ্টে আছি।”
মদনগঞ্জের গৃহিণী সুফিয়া বেগম বলেন, গরমে ঘরের ভিতর থাকা যায় না। তার উপর বারবার কারেন্ট যায়। রান্নাবান্না, পোলাপাইনের দেখাশোনা,সবকিছুতেই সমস্যা হইতাছে।
বন্দর এলাকার হোসিয়ারী মালিক হিরা বলেন, আপনি ফোন দিয়েছেন, এখনো বিদ্যুৎ নাই,এভাবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। কাজ সময়মতো শেষ করতে পারছি না। এতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।
স্কুল শিক্ষক রাকিব হোসেন বলেন, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অতিরিক্ত গরমে তাদের মনোযোগও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মদনপুর এলাকার শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার বলেন, সামনে পরীক্ষা। কিন্তু রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে পড়াশোনা করা খুব কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
সোনাকান্দা এলাকার কম্পিউটার টাইপিস্ট হাসিব বলেন, আমাগো কামডাই কারেন্টের ওপর। কারেন্ট না থাকলে কম্পিউটার বন্ধ, কাম বন্ধ, ইনকামও বন্ধ।
ধামগড় এলাকার এক মুদি দোকানদার বলেন, ঘন ঘন কারেন্ট গেলে ফ্রিজের জিনিস নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। কাস্টমারও কমে যায়, ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হইতাছে।
এব্যাপারে বন্দর জোনাল অফিসের এজিএম (প্রকৌশলী) মো. মোকছেদুল ইসলাম জানান, বন্দর এলাকায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ২৭ থেকে ২৮ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে কখনো ১০, ১২, ১৪ বা ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এ পরিস্থিতি চলছে। তিনি আরও জানান, বন্দর এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন এবং ভুতুড়ে বিলের কোনো অভিযোগ নেই।
অন্যদিকে নবীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান জানান, নবীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২২ থেকে ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রায় ৫০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। তিনি আরও জানান, নবীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৬৬ শতাংশ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পড়ুন:মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটে বাংলাদেশি আহত
ইমি/


