বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরে পুলিশ সদস্যকে লাথি মারার অভিযোগে বিএনপি নেতার ছেলেসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে খাস পুকুরের ইজারা আবেদন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে এক পুলিশ কনস্টেবলকে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার ছেলেসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ে খাস পুকুরের ইজারা আবেদন গ্রহণ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম আলী বাবুর ছেলে ও দিয়ুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাহাদুজ্জামান পরাগ, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জন ইউএনওর কক্ষের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং ইজারা আবেদন জমা দেওয়ার কার্যক্রমে বাধা দেন।

একপর্যায়ে কনস্টেবল নুরুল ইসলাম সরকার নিজের মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন। পরে তারা জোরপূর্বক ইউএনওর কক্ষের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কনস্টেবল নুরুল ইসলামকে লাথি মারা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করে তার উপস্থিতিতেই পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।
আহত কনস্টেবলকে পরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সোমবার দিবাগত রাতে বিরামপুর থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে রাহাদুজ্জামান পরাগ, আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন দাবি করেন, আহত কনস্টেবলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সময় পেছন থেকে হামলাকারীরা লাথি মারলে সেটি তার পায়েও লাগে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও তানজিনা খাতুন বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে শুনেছেন এবং পরে ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। তবে তিনি ঘটনাটি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেননি বলে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি।

ঘটনার পর বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইউএনওর কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিয়া মো. শফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন এবং বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পড়ুন:ফকিরহাটে সমাজসেবার কার্যালয়ের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন