বিজ্ঞাপন

তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর জামিনে মুক্ত

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান।

তিনি বলেন, রোববার হাই কোর্টের বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন।

দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পর দিন তাকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান,গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।

পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

১০ বছর পর চলতি বছরের ৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম আদালতে সাবেক তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির আবেদন করেন।

তারা হলেন- এ মামলার প্রধান আসামি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম।

এর পর ২২ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।

এ ছাড়া সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান এবং সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেয় আদালত।

এরই ধারাবাহিকতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম তদন্তের স্বার্থে ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হকের কাছে আরও দুজনের ডিএনএ সংগ্রহের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আদালত ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুতের পাশাপাশি তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।

তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলার মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে সাবেক সেনা সদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং কুমিল্লার রাজাপাড়া লক্ষীনগর গ্রামের এম এ হান্নানের ছেলে ফয়সাল আহমেদ রাব্বাী।

রাব্বী সামরিক নাকি বেসামরিক ব্যক্তি সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন