পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নিজস্ব উদ্যোগে দিনাজপুর শহরের গিরিজা খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টর। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর তত্ত্বাবধানে চলমান এ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ও রয়েছে।
জানা গেছে, শহরের মিশন রোড, ষষ্ঠীতলা ও দক্ষিণ বালিয়াডাঙ্গা এলাকার গৃহস্থালী বর্জ্য ও নোংরা পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম গিরিজা খালটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্জ্য, পলি, কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে যায়। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশা-মাছি, সাপ ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েন।
খালটির পাশে অবস্থিত শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহী পাবলিক স্কুল এবং কুঠিবাড়ী বিজিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছিল।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২২ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত বিজিবির নিজস্ব জনবল ও শ্রমিকদের সহায়তায় খালের ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা ও আগাছা অপসারণ করা হয়। এরপর ২৭ জুলাই থেকে রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ বিভাগের একটি এক্সকাভেটর মেশিনের সহায়তায় খালের পুনঃখনন (ড্রেজিং) ও সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, খালটির পরিষ্কার ও পুনঃখনন সম্পন্ন হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং মশা-মাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে বিজিবি সদস্য ও তাঁদের পরিবার, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরে পাবেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
পড়ুন : জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী
সা/


