ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ মনজুরুল হক ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি ঘোষণা করেন।
ঘোষিত এই কমিটির সদস্যরা হলেন, আহবায়ক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: এমতাজ হোসেন, সদস্য আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম, সদস্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইবির প্যানেল আইনজীবী ড. মো: সাজ্জাত হোসেন এবং সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো: ইসরাফুল হক।
কমিটির কার্যপরিধি মধ্যে রয়েছে, আগামী ১২/০৮/২০২৬ইং তারিখের মধ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্যকলাপের সহিত জড়িত শিক্ষকদেরকে চিহ্নিতকরণ এবং করণীয় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান। এবং পত্রিকায় প্রকাশিত ইবি’র শিক্ষকগণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন ও হুমকি প্রদানে লিপ্ত ছিলেন কি-না তা অনুসন্ধান।
এছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অপতৎপরতা সংক্রান্ত সংবাদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রবিরোধী অপতপরতার শামিল। এ জাতীয় অপতৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী, আইনবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, নৈতিক অবস্থান এবং পেশাগত দায়িত্বশীলতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
এতে আরো বলা হয়, এ বিষয়ে সার্বিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি ও দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ এমতাজ হোসেন-এর নেতৃত্বে ০৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গঠিত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান সম্পন্ন করে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভিস রুলস ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা আরো হয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন- শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী কোনো ব্যক্তি, তাঁর পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে, ছাড় পাবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সর্বাবস্থায় দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

