নেত্রকোনা শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৩টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তাসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে যেসকল স্থাপনা পুড়ে গেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সুচিত্রা স্টোর, উর্তি স্টোর, মজুমদার ইলেকট্রনিক্স এবং জুতা ও সিরামিকসের দোকানসহ ৬টি দোকান।
এছাড়া প্রান্ত সাহা, শুভ্র সাহা ও লিটন চৌধুরীর তিনটি আধাপাকা টিনশেড বসতবাড়ি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়বাজার এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। একে একে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরাও আগুন নেভানোর কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহায়তা করেন। সবার সম্মিলিত এবং প্রায় দুই ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করার সময় নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার খানে আলম খানসহ চারজন আহত হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আহত চারজনই বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বড়বাজারের ‘সুচিত্রা স্টোর’ থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশেপাশের দোকান ও বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্টেশন অফিসার খানে আলম খান জানান, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
পড়ুন : আজ ডিজিএফআই-এর গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করবে ট্রাইব্যুনাল
সা/


